কুমারগঞ্জ: পরীক্ষার হল মানেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক বুক আতঙ্ক আর খাতার খসখসানির আওয়াজ। কিন্তু সেই হলেই যদি পরীক্ষার্থী মাত্র একজন হয়, তবে তার অনুভূতি কেমন হতে পারে? বুধবার উচ্চ মাধ্যমিকের শারীর শিক্ষা পরীক্ষায় দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে (Kumarganj Distinctive HS Examination) দেখা গেল ঠিক এমনই এক রূপকথার মতো দৃশ্য। যেখানে এক পরীক্ষার্থী হেমন্ত মুর্মুর জন্য সুরক্ষায় মোতায়েন রইল ১২ জন পুলিশ ও বিশাল এক প্রশাসনিক দল।
গোপালগঞ্জ রঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র হেমন্ত মুর্মুর পরীক্ষার সিট পড়েছিল সাফানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। শারীর শিক্ষা বিষয়টি কুমারগঞ্জ ব্লকে একমাত্র হেমন্তেরই ছিল। ফলে আজ পুরো স্কুলে সে-ই ছিল একমাত্র পরীক্ষার্থী। তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল এলাহি আয়োজন। ১২ জন পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে ৬ জন ফ্লায়িং স্কোয়াড পর্যবেক্ষক, ৩০ জন শিক্ষক এবং ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী— সকলেই হাজির ছিলেন শুধুমাত্র হেমন্তের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে।
পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে হেমন্তের সরল স্বীকারোক্তি, “একলা পরীক্ষা দিতে প্রথমটায় একটু অদ্ভুত লাগছিল ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষা দিতে কোনো অসুবিধে হয়নি।” অন্যদিকে কুমারগঞ্জ সেন্টার ইনচার্জ দেবলীনা চট্টোপাধ্যায় জানান, “পরীক্ষার্থী একজন হোক বা পাঁচশো, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সমস্ত নিয়ম ও বিধি মেনেই পরীক্ষা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আজ সেটাই করা হয়েছে।” নিয়মের এই কড়াকড়ি আর এক পরীক্ষার্থীর ‘একক যুদ্ধ’ কুমারগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে এখন হাসি আর চর্চার খোরাক।
