কুমারগঞ্জ: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) শুনানি শিবিরকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বর (Kumarganj BDO Workplace)। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হন দুই সরকারি আধিকারিক। তাঁদের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার চাঞ্চল্যকর ছবিও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন ব্লক অফিস সংলগ্ন আইসিডিএস অফিসে জাখিরপুর পঞ্চায়েতের ১২২, ১২৩ ও ১২৫ নম্বর বুথের ভোটারদের শুনানি চলছিল। অভিযোগ, শুনানির সময় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের নথিতে ‘নো ম্যাচিং’ লিখে দেওয়া হয়। সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এমনটা করা হল, তা নিয়ে উপস্থিত আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তর্কবিতর্ক মুহূর্তেই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ঘরের ভেতরে ঢুকে মাইক্রো অবজারভার দিব্যেন্দু গড়াই এবং দিলীপ লাকড়া নামে কৃষি দপ্তরের কর্মীকে মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এক আধিকারিক হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইতে থাকেন। খবর পেয়ে বিডিও নিজে গিয়ে আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিজের চেম্বারে নিয়ে আসেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সম্পাদক রজত ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পর্যবেক্ষকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।’ অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের ‘নো ম্যাচিং’ দেখিয়ে ভোটাধিকার নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘক্ষণ বিডিও অফিস চত্বরে উত্তেজনা বজায় ছিল।
