উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রিকেট মাঠের পরিচিত ব্যাকরণ বলছে, ম্যাচ শেষে হার-জিত নির্বিশেষে দু’দলের খেলোয়াড়রা করমর্দন করবেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর সেই ‘প্রথা’ ভেঙে সরাসরি সাজঘরে হাঁটা দিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবে। পাক ক্রিকেটারদের একা ফেলে রেখে ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের মাস দুয়েক পর, এবার ভারতের সমালোচনায় সরব হলেন হলিউডের জনপ্রিয় পাক-আমেরিকান অভিনেতা কুমৈল নানজিয়ানী।
আমেরিকা নিবাসী এই অভিনেতার মতে, ভারতের এই আচরণ খেলাধুলার মূল স্পিরিটের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “ভারত যা করেছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং রুচিহীন। খেলাধুলা মানুষের বিভেদ ভুলিয়ে একাত্ম হওয়ার মঞ্চ। সেখানে হাত না মেলানো মানে প্রতিপক্ষকে সম্মান না জানানো।”উল্লেখ্য, সেদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের কোচ ভারতের সাজঘরের দরজায় গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। মাঠে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাবর আজমরা।
‘খেলোয়াড়ি মানসিকতার ঊর্ধ্বে দেশ’: সূর্যের কড়া জবাব
খেলোয়াড়ি সুলভ আচরণের অভাব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের যুক্তি ছিল একেবারেই ভিন্ন এবং আবেগঘন। ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, কিছু কিছু বিষয় স্রেফ ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’-এর চেয়েও বড় হয়। তাঁর কথায়, “আমরা পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের শোকাতুর হৃদয়ের পাশে রয়েছি। আমরা দাঁড়িয়ে আছি আমাদের সেনাবাহিনীর পাশে।” সূর্যের এই মন্তব্য পরিষ্কার করে দিয়েছিল যে, সীমান্তের ওপারে বারবার ঘটে চলা নাশকতার আবহে কেবল ‘সৌজন্য’ বজায় রাখা ভারতীয় দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
নতুন মেরুকরণ
ক্রিকেট বিশ্ব এখন দু’ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ মনে করছে কুমৈলের দাবি যৌক্তিক—মাঠে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। অন্য পক্ষ মনে করছে, দেশের বীর জওয়ানদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া ‘হাত মেলানোর সৌজন্য’ নেহাতই অর্থহীন। ২০২৫-এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে সূর্যকুমারদের সেই নীরব প্রতিবাদ আজও যেন ভারতের কঠিন অবস্থানেরই প্রতিফলন।
