শুভদীপ শর্মা, ক্রান্তি: তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। প্রত্যেক বছর বর্ষার আগে ক্রান্তি ব্লকের (Kranti) চাপাডাঙ্গা এবং চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই চরের প্রায় ১০০টি বাড়ি ডুবে যায়। এবার এখনও বর্ষা শুরু হয়নি। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে প্রায় তিস্তাগর্ভে চলে গিয়েছিল বাড়িগুলো। এবছর যাতে এই সমস্ত চরে আর নতুন করে বসতি না গড়ে ওঠে সেদিকে নজর রাখতে বিশেষ টিম গড়ে তুলছে ক্রান্তি ব্লক প্রশাসন। পাশাপাশি চরের বর্তমান বাসিন্দাদের অন্য কোথাও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।
ক্রান্তি ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে চাপাডাঙ্গা ও চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে তিস্তা নদী। নদীর চরে এই অসংরক্ষিত এলাকায় নিজেদের দখলে থাকা চাষের জমিতে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। তাই সেখানেই ঘরবাড়ি গড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেরই অন্য এলাকাতেও বাড়ি রয়েছে।
ক্রান্তি ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘তিস্তার যে অংশে এই মানুষগুলো বসবাস করেন, সেখানে তাঁদের থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও এই মানুষগুলো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওখানে বসবাস করছেন। বন্যার সময় ত্রাণ থেকে অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনের তরফে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’
ক্রান্তির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন রায় জানান, অসংরক্ষিত এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেখানে যাতে কেউ বাড়িঘর নির্মাণ না করেন, সেটা দেখার জন্য চ্যাংমারি এবং চাপাডাঙ্গায় আলাদা করে টিম তৈরি করা হচ্ছে।
ক্রান্তির বিডিও রিমিল সোরেন জানান, ওই অসংরক্ষিত এলাকার পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন দেওয়ার চেষ্টাও চলছে। অসংরক্ষিত এলাকার পাশাপাশি সংরক্ষিত এলাকাতেও গ্রামবাসীর অনেকের বাড়ি রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যাঁদের সংরক্ষিত এলাকায় জমি বা বাড়ি নেই, তাঁদের জমির পাশাপাশি বাড়ি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর জন্য ভূমি রাজস্ব দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট জায়গায় জমি খোঁজার কাজ চলছে। সেই জমি পাওয়া গেলে প্রক্রিয়া মেনে চরে থাকা এই পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন দেওয়া হবে।’
প্রশাসনের তরফে তিস্তাচরের অসংরক্ষিত এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা ভাবলেও এলাকাবাসী তা চাইছেন না। চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অসংরক্ষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন মহম্মদ হাফিজ, জীবন দাসরা। হাফিজ বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে আমরা এই চরের জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। সরকার আমাদের অন্য জায়গায় জমি এবং ঘর দিলে কাজ কী করব? তাই বর্ষার এই সমস্যা থাকুক, আমরা চরেই থেকে যেতে চাই।’
