সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারালেন কলকাতার বাসিন্দা-সহ মোট পাঁচজন নাবিক। মঙ্গলবার সোমালিয়ার পান্টল্যান্ডের তথ্যমন্ত্রক সূত্রে খবরটি নিশ্চিক করা হয়েছে। বিগত দশ বছরে এই প্রথমবার সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হামলায় কোন নাবিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
ঘটনাটি গত ২১ এপ্রিলের। পালাউয়ের পতাকাবাহী পেট্রলিয়াম ট্যাঙ্কার ‘এম টি অনার ২৫’ কে মাঝসমুদ্রে দস্যুরা ঘিরে ফেলে। ওই ট্যাঙ্কারটি ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল নিয়ে মোগাদিশুর দিকে যাচ্ছিল। সেখানেই ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা তানভীর-সহ ১৭ জন। পাণ্টল্যান্ড পুলিশের তরফে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার জাহাজটিকে নিরাপত্তা বাহিনী দস্যুমুক্ত করে। কিন্তু সেনা ও পুলিশের উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগে বন্দি নাবিকদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি, একজন মায়ানমারের নাগরিক এবং কলকাতার বাসিন্দা তানভীরকে গুলি করে খুন করা হয়।
আরও পড়ুন:
নাবিকদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’র মুখপাত্র মনোজ যাদব জানান, বুধবার মৃত তানভীরের পরিবারের হাতে নিথর দেহের ছবি পাঠানো হয়। তাতেই নেমেছে শোকের ছায়া। নিহত তানভীরের মা বলেন, “বিগত পাঁচটা মাস চরম দুশ্চিন্তায় দিন কেটেছে আমাদের। এবার অন্তত ছেলেটার দেহটা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দিন।” এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি কেন্দ্র ও বিদেশ মন্ত্রককে কড়া সমালোচনা করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ভারত সরকারের তরফে জাহাজে কোনও ভারতীয় না থাকার যে দাবি করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি কোন গাফিলতিতে জাহাজ সংস্থা এক ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হল, বিদেশমন্ত্রককে তার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
