উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার (Kolkata) চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির বিপর্যয়ের ঘটনায় রাতেই এল বড় পদক্ষেপ। একটানা দীর্ঘ জেরার পর অবশেষে পুজো কমিটির শীর্ষকর্তা সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতের ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে, পাশাপাশি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২৫ জন। উদ্ভূত এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে আজ সকালে তদারকিতে কলকাতায় এসে নিজের পূর্বনির্ধারিত সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতভর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর মোট ১৪ জনের মধ্যে থেকে সুনির্দিষ্ট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা (ওরফে রাজা) এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়াও ভিআইপি পাস যাচাই ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের গুরুদায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা এবং পিন্টু দে-কেও পাকড়াও করা হয়েছে।
তদন্তকারী অফিসারদের নজর এড়ায়নি বাঁশের কাঠামো নির্মাণের গাফিলতিও। মণ্ডপের এই নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার রাতে দায়িত্বে থাকা দুই বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকেও হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।
চোরবাগানের এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর পরিচালনা পর্ষদের পোস্টার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জানা গেছে, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো), জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক তথা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান বিজয় ওঝা এবং উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।
শনিবার রাতেই কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কাউকে একবিন্দু রেয়াত করা হবে না। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের বিশেষ দল গাফিলতির উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।
দুর্গাপুজোর বিশেষ আমন্ত্রণে আজ সকালেই কলকাতায় পৌঁছন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। তবে চোরবাগানের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরেই তিনি সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার সকালে সোজা কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

