Kolkata | কলকাতা পুরসভায় ক্ষমতার লড়াই: কাউন্সিলরদের তলব মমতার, এলেন না অনেকেই!

Kolkata | কলকাতা পুরসভায় ক্ষমতার লড়াই: কাউন্সিলরদের তলব মমতার, এলেন না অনেকেই!

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে এবার কলকাতা (Kolkata) পুরসভাতেও তীব্র রাজনৈতিক টালমাটাল। একদিকে কাউন্সিলরদের বড় অংশের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে প্রশাসনিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে পুরভবনে যেন বারুদ স্তূপের পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে তিনি কাউন্সিলরদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “কেউ পদত্যাগ করবে না, দল আপনাদের পাশে আছে।”

সূত্রের খবর, এদিন তৃণমূল নেতৃত্বের ডাকে কালীঘাটের কার্যালয়ে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল পুরসভার ১৩৬ জন কাউন্সিলরকে। কিন্তু রাজনৈতিক ডামাডোলের এই দিনে হাজির ছিলেন মাত্র ৯৬ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪০ জন জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি শাসকদলের অন্দরেই নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

অনুপস্থিতদের তালিকায় রয়েছেন দেবাশিস কুমার, তারক সিং, জীবন সাহা, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের মতো হেভিওয়েট নেতারা। বাদ যাননি বোরো চেয়ারম্যানদের অনেকেও। এই অনুপস্থিতি কি শুধুই ব্যস্ততা, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন শহরজুড়ে।

বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পুরসভায় কাউন্সিলরদের ঘরে ঢুকতে না দেওয়া অবৈধ। ববি, ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনার জন্য একটি দিন ঠিক করো।” একইসঙ্গে তিনি আইনি লড়াইয়ের হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “পুলিশ কেস দিলে দিক, দল আইনজীবী দিয়ে লড়বে। তবে কেউ পদত্যাগ করবে না।”

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “জনগণ আপনাদের পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন। নিজেদের কাজ করুন। মানুষই ঠিক করবে কাদের রাখবে, বিজেপি (BJP) নয়।”

তৃণমূলের এই দাবিকে নস্যাৎ করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। সজল ঘোষ পুর কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কাউন্সিলররা পুর সচিবকে হুমকি দিয়েছেন। সজল ঘোষের দাবি, সচিবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।তাঁরা চান, কমিশন এই বিষয়ে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিক।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই লড়াইয়ের ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষ। পুর অধিবেশন বাতিল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব—সবমিলিয়ে শহরের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। তৃণমূলের এই ধরনার ডাক কি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করবে? নাকি পুরসভার অন্দরের এই চাপানউতোর শীঘ্রই নতুন কোনো রাজনৈতিক মোড় নেবে? সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য-রাজনীতি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *