Kishore Kumar Gouri Kunj | সুরের আসর থেকে ফুডিদের আড্ডা! কিশোর কুমারের ‘গৌরী কুঞ্জ’ আজ কোহলির রেস্তোরাঁ

Kishore Kumar Gouri Kunj | সুরের আসর থেকে ফুডিদের আড্ডা! কিশোর কুমারের ‘গৌরী কুঞ্জ’ আজ কোহলির রেস্তোরাঁ

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: একজন ভারতীয় সংগীতের চিরকালীন কিংবদন্তি, অন্যজন ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। ভিন্ন জগতের এই দুই তারকা কীভাবে যেন একই সুতোয় বেঁধে গিয়েছেন মুম্বইয়ের এক ঠিকানায়। মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা জুহুতে কিশোর কুমারের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’ (Kishore Kumar Gouri Kunj)-এর একাংশেই গড়ে উঠেছে ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির (Virat Kohli) জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘ওয়ানএইট কমিউন’। ২০২২ সালে এই বাংলোটি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন বিরাট। একসময় যেখানে প্রতি কোণায় বেজে উঠত কিশোর কুমারের কণ্ঠস্বর, সুরের মূর্ছনা আর প্রাণখোলা হাসির রোল, আজ সেই ঐতিহাসিক ভবনের একাংশেই খাদ্যরসিকদের জমজমাট ভিড়। বিশেষ করে কিশোর কুমারের ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতেও অনুরাগীরা এই ঠিকানাতেই ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর স্মৃতিচারণায়।

মায়ের নাম ‘গৌরী দেবী’র স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বাংলোর নামকরণ করেছিলেন কিশোর কুমার (Kishore Kumar)। কেরিয়ারের মধ্যগগনে এই বাংলোটি তৈরি হলেও, তিনি এটিকে কখনোই বিলাসবহুল প্রদর্শনী হিসেবে দেখেননি। বরং মুম্বইয়ের তীব্র কর্মব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে একটু শান্তির খোঁজেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই শান্ত আশ্রয়। চারপাশ ঘেরা সবুজ তরুচ্ছায়া, খোলা উঠোন আর বিস্তীর্ণ লন— সব মিলিয়ে এক অপূর্ব প্রশান্তির পরিবেশ।

‘গৌরী কুঞ্জ’ এবং কিশোর কুমারকে ঘিরে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য রঙিন ও অদ্ভুত সব গল্প। ১৯৮৫ সালের একটি বিখ্যাত সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বাগানের গাছগুলিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অনেক গাছের নামও তিনি নিজে ভালোবেসে রেখেছিলেন এবং অবসর সময়ে কেবল তাদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। নিজের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনকে কতটা ভালোবাসতেন, তার প্রমাণ মিলত বাড়ির মূল গেটে ঝোলা সেই বিখ্যাত সতর্কবার্তা— ‘বিঅ্যাওয়ার অফ কিশোর’ (Watch out for Kishor) বা কিশোর থেকে সাবধান! কৌতুকপ্রিয় অথচ নিভৃতচারী এই মানুষটির নিখাদ ব্যক্তিত্বের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি ছিল সেই সাইনবোর্ড।

একসময়ের সেই সুরের আঁতুড়ঘর এবং বহু জনপ্রিয় গানের পরিকল্পনাস্থল ‘গৌরী কুঞ্জ’-এ নিয়মিত আসতেন সেকালের নামী সংগীত পরিচালক, শিল্পী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। সময়ের পালাবদলে ২০২২ সালে এই ঐতিহাসিক বাড়ির একটি অংশে বিরাট কোহলির ‘ওয়ানএইট কমিউন’ চালু হলেও, সংস্কারের সময় মূল বাড়ির ঐতিহ্য এবং প্রাচীন চরিত্রটি সম্পূর্ণ বজায় রাখা হয়েছে। ইট, কাঠ, পাথরের ছোঁয়া, চারপাশের পুরোনো গাছপালা, বড় বড় কাঁচের জানালা আর ভেতরে প্রবেশ করা প্রাকৃতিক আলো— সব মিলিয়ে কিশোরের সেই প্রিয় পরিবেশের আবহকেই জীবন্ত রাখা হয়েছে। ইতিহাস আর আধুনিকতার এই অপূর্ব মেলবন্ধনই আজ এই ঠিকানাকে করে তুলেছে অনন্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *