উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বরফশোভিত উপত্যকার চেনা ছবিটা এবার উধাও। ফেব্রুয়ারি মাসে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার বদলে কার্যত চৈত্র মাসের গরম অনুভূত হচ্ছে কাশ্মীরে। শনিবার শ্রীনগরের তাপমাত্রা পৌঁছে গেল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড বুক ওলটপালট করে দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এটি কাশ্মীরের ইতিহাসে উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি।
রেকর্ড ভাঙা উত্তাপ: ১৯৪০ থেকে ২০২৬
গত কয়েক দশকের খতিয়ান বলছে, এর আগে ১৯৪০ এবং ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারির পারদ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল। কিন্তু এবার সেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১১ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রায় পুড়ছে শ্রীনগর। শুধু সমতল নয়, পাহাড়ের চিত্রটাও ভয়াবহ:
• গুলমার্গ: যেখানে ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে আজ পারদ ছুঁয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি।
• সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: মাইনাস ৬ ডিগ্রির বদলে গুলমার্গে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চিন্তায় পরিবেশবিদরা!
আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা মুখতার আহমদ জানিয়েছেন, “রেকর্ড গড়া এই তাপমাত্রার গ্রাফ আগামী কয়েক দিনে আরও ১-২ ডিগ্রি বাড়তে পারে।” অন্যদিকে, স্বতন্ত্র আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ফয়জান আরিফের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি ফেব্রুয়ারি। তাঁর কথায়, “কাশ্মীরে এখন যে আবহাওয়া চলছে, তা সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেখা যায়।”
শুকনো ফেব্রুয়ারি
পরিবেশবিদ ও কৃষকদের জন্য সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হল বৃষ্টিহীনতা। ১. তুষারপাত নেই: ফেব্রুয়ারি মাস যেখানে তুষারপাতের জন্য পরিচিত, সেখানে এবার উপত্যকা কার্যত শুকনো। ২. বৃষ্টির অভাব: আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ৩. চাষাবাদে প্রভাব: অসময়ে এই গরম এবং বরফের অভাব আপেল বাগান ও কেশর চাষে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই ‘রুদ্রমূর্তি’ ভূস্বর্গের চেনা পরিবেশকে কতটা বদলে দেবে, তা নিয়ে এখন থেকেই সরব হচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা। শীতের বিদায় কি তবে সময়ের অনেক আগেই ঘটে গেল? প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
