উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কর্নাটকে (Karnataka) কংগ্রেস সরকারে টালমাটাল অবস্থা। উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের (DK Shivakumar) সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah) সংঘাত চরমে। ফলে কর্নাটক সরকারে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই রাজ্যের দশজন কংগ্রেস বিধায়ক দিল্লি গিয়েছেন। এরা সকলেই শিবকুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁরা কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শিবকুমারকে চান। শুক্রবার আরও ১২ জন বিধায়ক দিল্লি যাবেন বলে খবর।
ওই বিধায়কদের সঙ্গে এদিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর বৈঠক হতে পারে।
এদিকে এত সহজে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে নারাজ সিদ্দারামাইয়াও। বৃহস্পতিবার তিনি সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার একটি জমায়েতে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনিই থাকছেন।
২০২৩ সালের ২০ মে কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। শিবকুমার এবং সিদ্দারামাইয়া উভয়েই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার। শেষ পর্যন্ত উভয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিবকুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী ও সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করেন কংগ্রেস হাইকমান্ড।
যেহেতু এই দুই নেতাই কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতিতে বেশ ওজনদার নেতা, তাই সেসময় কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল যে, আড়াই বছর করে একেক জন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। যদিও এই কথা কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বলেননি। সম্প্রতি সিদ্দারামাইয়া তার মুখ্যমন্ত্রীত্বের আড়াই বছর পূর্ণ করে ফেলেছেন।
বুধবার জল্পনা কিছুটা উস্কে দিয়েছিন শিবকুমার। তিনি কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। সেই পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই পদ তো চির দিন ধরে রাখতে পারি না। সাড়ে পাঁচ বছর হয়ে গিয়েছে।’ তবে কি তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছেন? সেব্যপারে অবশ্য তিনি খোলসা করে কিছু বলেননি।
অন্যদিকে শিবকুমারের ভাই ডিকে সুরেশ আবার রাখঢাক না করেই মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা দিয়ে বলেছেন, সিদ্দারামাইয়া যে কথা দিয়েছিলেন, তা তাঁর রাখা উচিত। এবিষয়ে শিবকুমার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
