উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার ‘অনুমতি’ প্রদানের দাবি ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। মার্কিন প্রশাসনের এই মন্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন দেশের বিশিষ্ট জননেতা ও অভিনেতা কমল হাসান। সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে চলে না।
বিতর্কের সূত্রপাত কী নিয়ে?
সম্প্রতি আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার “অনুমতি” (Permission) দিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি আরও যোগ করেন, ভারত আগে আমেরিকার অনুরোধ মেনে রুশ তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কমল হাসানের কড়া প্রতিক্রিয়া
মক্কাল নিধি মইয়ম নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ কমল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখেন: “মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আমরা ভারতীয় নাগরিকরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অংশ। আমরা আর দূরবর্তী কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে চলি না। দয়া করে নিজের কাজে মন দিন।” তিনি আরও বলেন যে, দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাই দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বশান্তির একমাত্র ভিত্তি।
কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান
আমেরিকার এই ‘অনুমতি’ দেওয়ার দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
• ভারত বর্তমানে ২৭টির বদলে ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে।
• জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে ভারত সেই দেশ থেকেই তেল কিনবে যেখানে প্রতিযোগিতামূলক এবং সাশ্রয়ী দাম পাওয়া যাবে।
• সরকারি আধিকারিকদের মতে, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারত কখনোই কোনো দেশের অনুমতির ওপর নির্ভর করেনি।
সরব রাহুল গান্ধীও
এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের বিদেশনীতিকে বিঁধে তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের বিদেশনীতি আমাদের জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন হওয়া উচিত। আজ যা দেখছি তা কোনো নীতি নয়, বরং এক ‘আপস করা’ ব্যক্তির শোষণের ফল।”
