কালিয়াগঞ্জ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক এক মাস আগে কালিয়াগঞ্জ (Kaliyaganj) পুরসভার অন্দরে শুরু হল রাজনৈতিক কম্পন! সোমবার সকালে পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সোমা দেব চৌধুরী (Soma Deb Chowdhury) তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এবং তাঁর স্বামী বিজন কুমার দেব তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সোমা দেবী দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গত শনিবার পুরসভার এক অস্থায়ী কর্মী ড্রেনের সমস্যা নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন এবং তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় অপমান করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সোমা দেব চৌধুরী জানান: শনিবার সকালে পুরসভার এক অস্থায়ী কর্মী একটি ড্রেনের সমস্যা নিয়ে আমার বাড়িতে এসে অশ্লীল ভাষায় আমার স্বামী বিজন কুমার দেব এবং আমাকে অপমানিত করেন৷ তৎক্ষনাৎ, শহর তৃণমূল দলের সংগঠনের নেতৃত্ব সুজিত সরকারকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু, সুজিত বাবুর পক্ষ থেকে এই ঘটনার সঠিক বিচার না পাওয়ার দরুন আমার এই পদক্ষেপ। আজ থেকে আমি এবং আমার স্বামী বিজন দেব তৃণমূল দলও ছাড়লাম।’
এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে শহর তৃণমূল সভাপতি সুজিত সরকার কিছুটা রক্ষণাত্মক মেজাজে রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সোমা দেবীর পদত্যাগের বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন না। সুজিত বাবুর কথায়, “শুধু পদত্যাগপত্র জমা দিলেই হয় না, তা গ্রহণেরও বিষয় রয়েছে। আমরা দলগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলব।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় এই ভাঙন তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। কালিয়াগঞ্জ শহর মন্ডল সভাপতি অপূর্ব রায় কটাক্ষ করে বলেন: ‘সোমাদেবীর দূরদর্শিতা রয়েছে। হয়তো উনি বুঝতে পেরেছেন তৃণমূল এবার রাজ্য থেকে তল্পিতল্পা গুটাতে চলেছে। তাই হয়তো উনি আগেভাগেই দল এবং কাউন্সিলর পদ ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন৷’
