অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগমুহূর্তে কালিয়াগঞ্জের (Kaliyaganj) রাজনৈতিক পারদ চড়ল বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়কে কেন্দ্র করে। বুধবার সকালে কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুর এলাকায় বিধায়ককে ‘বহিরাগত’ এবং ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার সাঁটা হয়। সেই পোস্টার ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কে এই পোস্টার লাগিয়েছে? নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সেই পোস্টারের নীচে লেখা রয়েছে ‘সৌজন্যে বিজেপি কর্মী’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিধায়ক সৌমেনকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পুরো ঘটনাটিকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমি একটু আগেই দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জে মিটিং শেষ করলাম। কেউ বলতে পারছে না যে কে এই পোস্টার লাগিয়েছে। আমার মনে হয়, কালিয়াগঞ্জে তৃণমূল (TMC) ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই ওরাই এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।’
ঘটনাটি নিয়ে কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কনভেনার নিতাই বৈশ্য সরাসরি বিজেপির (BJP) গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এই ধরনের কাজ কখনও করে না। তাঁর দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমার প্রাথমিক ধারণা।’ বিধায়ককে ‘বহিরাগত’ বলা নিয়ে অবশ্য নিতাই সহমত নন। তাঁর কথায়, ‘তিনি তো এই দেশেরই নাগরিক। বাংলার যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রেই উনি দাঁড়াতে পারেন।’
গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সৌমেনকে নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, কালিয়াগঞ্জের বিজেপি কর্মীদের একাংশ এই দলবদলু বিধায়কের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ। একসময় বিজেপির প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য কমল সরকারও বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
সেই কমল বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষ ওঁর দেখা পায়নি, তাই আগে ওসব বলেছি। এখন সবাই ওঁকে দেখতে পাচ্ছে, তাই আর কিছু বলব না।’ তবে বিধায়ক ভোটের আগে বেশি সক্রিয় কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কমল মন্তব্য করতে চাননি।
