নাগরাকাটা: ভুটানে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। আর এই জেরেই শনিবার সন্ধ্যায় নাগাদ ভয়ংকর রূপ ধারণ করল কালীখোলা নদী (Kalikhola River)। দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নদীর জল ডাইভারশন সেতুর (Diversion Bridge) ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। এর ফলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় লুকসান এলাকায় (Luksan)। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা মনে করে নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে এলাকাবাসীর।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অক্টোবর এক ভয়াবহ বন্যায় এই কালীখোলা সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল। যার ফলে চ্যাংমারি চা বাগান, লাল ঝামেলা বস্তি এবং ধরণিপুর চা বাগান সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে লুকসানের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ফলে যাতায়াতের জন্য কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল বাসিন্দাদের।
ওই বিপর্যয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে লুকসানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। তাঁর নির্দেশে যাতায়াত চালু রাখতে কালীখোলায় একটি ডাইভারশন সেতু তৈরি করা হয়েছিল। যদিও নির্মাণের সময় থেকেই স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন যে সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে বন্যার জল লাগোয়া কালীখোলা বস্তিতে ঢুকে যাবে। শনিবার সেই আশঙ্কাই প্রবল হতে শুরু করে যখন ভুটানে প্রবল বৃষ্টির পর কালীখোলা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি এই ডাইভারশন সেতুর নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, আরও বেশি উচ্চতায় এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না। নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বস্তি ভেসে যেতে পারে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য তথা স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ ওয়াইবা। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের গাফিলতির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি জানান, ডাইভারশন সেতুটি সঠিকভাবে তৈরি না হওয়ায় আজ এই পরিস্থিতি। বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।

