কালিয়াচক: ৩৫ বছর পর বাড়িতে প্রত্যাবর্তন এক নিখোঁজ ব্যক্তির। কিশোর বয়সে কালিয়াচকের নওদা যদুপুর এলাকার বাসিন্দা জাহিদ শেখ পঞ্জাবে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এখন তিনি বিবাহিত, বয়সের দিক থেকে প্রায় মধ্যবয়স্ক। শনিবার স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন জাহিদ। তাঁকে দেখে উচ্ছ্বসিত পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা ভেবেই নিয়েছিলেন, জাহিদ বোধহয় আর বেঁচে নেই। কিন্তু দীর্ঘ এত বছর কী এমন হয়েছিল জাহিদের যে তিনি বাড়ি ফিরতে পারেননি?
সমস্ত কথা খুলে বলেছেন খোদ জাহিদই। তিনি জানিয়েছেন, পঞ্জাবে কাজে যাওয়ার পর তাঁর মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। দুই বছর তিনি অসুস্থ ছিলেন। স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হবার পর তাঁর বাড়ির কথা মনে আসে। তখন তিনি যে ব্যক্তির অধীনে কাজ করতেন, তাঁর সহায়তায় বাড়িতে চিঠি পাঠান। কিন্তু কোনও কারণে সেই চিঠি বাড়িতে পৌঁছায় না। জাহিদের মালিক তাঁকে সেই কথাই জানিয়েছিলেন।
এরপর থেকে জাহিদের জীবনে সংগ্রাম শুরু হয়। বিচারবিবেচনা না করে পেটের তাগিদে বিভিন্ন কাজ করতে করতে একদিন তিনি চলে যান নয়াদিল্লির গাজিয়াবাদে। নিজের পরিবার বলতে কেউ ছিল না, তাই সংসার পাতেন জাহিদ। বছর ২৫ আগে তাঁর বিয়ে হয়। এদিকে, কালিয়াচকে তাঁর পরিবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাহিদের কোনও অঘটন ঘটেছে ধরে নিয়ে সমস্ত আশা ছেড়ে দেয়।
এত বছর পর কেন এই প্রত্যাবর্তন? জাহিদের কথায়, ‘আমার ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে। ওরা ঠাকুমা-দাদুকে দেখতে চাইছিল। আর আমারও জন্মভিটেতে ফিরে সবার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে ছিল।’ দুঃখের বিষয় সব আশা পূরণ হয়নি, জাহিদের বাবা-মা কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। তবে দাদা সুলতান শেখ বেঁচে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ভাইকে অনেক খুঁজেও পাইনি। এখান থেকে লোক বাইরে কাজে গেলে খোঁজ নিতাম। কিন্তু ও বাড়ি ফিরেছে, খুব আনন্দ হচ্ছে।’
