Kali Puja 2025 | ‘দশভুজা’ কালীর আরাধনা চাঁচলে

Kali Puja 2025 | ‘দশভুজা’ কালীর আরাধনা চাঁচলে

শিক্ষা
Spread the love


মুরতুজ আলম ও সৌরভকুমার মিশ্র, সামসী ও হরিশ্চন্দ্রপুর: দশভুজা শব্দটা শুনলে সকলের নিশ্চয়ই অসুরের বুকে ত্রিশূল বিঁধিয়ে দেওয়া দেবী দুর্গার ছবিই চোখে ভাসে। কিন্তু শুধু দেবী দুর্গা নন, মালদার (Malda) চাঁচলে (Chanchal) দেবী কালীও দশভুজা। শুধু হাত নয়, তাঁর পা-ও দশটি। এমনকি রাবণরাজের মতো মাথাও দশটিই। বছরের পর বছর ধরে দেবী কালী এই রূপেই ভক্তজনের পুজো পাচ্ছেন মালদার চাঁচলের পুষ্প সিনেমা হল রোডে। এলাকাবাসীর কাছেও তিনি ‘দশমাথা কালী’ নামেই পরিচিত।

তবে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যা নয়, বরং ভূতচতুর্দশীর দিনই পূজিত হন ‘দশমাথা’ কালী (Kali Puja 2025)। প্রতিবছরের মতো গত শনিবার, ভূতচতুর্দশীর রাতে মহাধুমধামে দশমাথা কালীর পুজো হল চাঁচলে। এবার ২৪তম বর্ষে পা দিল দশমাথা কালীর পুজো। স্থানীয়রা জানান, এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত রাজনন্দন সিংহ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুজোর দায়িত্ব নেন প্রয়াত খোকন পান্ডে। খোকনের মৃত্যুর পর এখন তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রাই পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন। এবছরও ধুনোর গন্ধ, ঢাকের বোল আর পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণে দেবীর পুজোয় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তারপর পুজো শেষে দেবীর আরতি ও যজ্ঞ হয়। দেবী দশমাথা কালীর দর্শনে ভিড় করে শহরের সকল ভক্তজন। চিরাচরিত রীতি মেনেই দেবীর আরাধনার পর সকলকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। পুজো কমিটির সদস্য অভিষেক পান্ডে বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা সকলে ভূতচতুর্দশীর রাতে সম্পূর্ণ নিষ্ঠায় দশমাথা দেবী কালীর পুজো করি। এবছরও তাতে কোনও অন্যথা হয়নি। পুজো ও যজ্ঞের পর সকল ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।’

আবার কার্তিকেয় শুক্লপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে চাঁচল হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলা-কাশিমপুর গ্রামেও দশমাথা দেবী কালীর পুজো হয়। প্রতিবছরের মতোই গভীর রাতে বলি দেখতে ভিড় জমান এলাকার ভক্তজনেরা। স্থানীয়দের মতে, ১৯৬৩ সালে স্থানীয় বাসিন্দা কানাই দাস, লিচু দাস ও চিকিৎসক বীরেন্দ্রকুমার দাসের উদ্যোগে ওই দশমাথা কালীর পুজো শুরু হয়েছিল। তখন কালী মন্দিরের জন্য জমি দান করেছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ব্রহ্মানন্দ কেডিয়া। তারপর থেকেই এলাকাবাসীদের উদ্যোগে ও আর্থিক আনুকূল্যে দশমাথা কালীর পুজো হচ্ছে।

পুণ্যার্থীরা আজও সেখানে মনস্কামনা পূরণের আশায় পায়রা, ছাগল প্রভৃতি বলিদান করেন। এছাড়া সমস্ত রকম আচার মেনে পুজো হওয়ার পাশাপাশি সাতদিন ধরে মেলাও হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *