বক্সিরহাট: স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে কোণঠাসা কোচবিহারের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি পুষ্পিতা রায় ডাকুয়া (Job Rip-off)। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বক্সিরহাট থানায় পুষ্পিতা, তাঁর স্বামী নরেন ডাকুয়া, ছেলে, মেয়ে-জামাই এবং ঘনিষ্ঠ সুবোধ থাপা সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমে বুধবার পুলিশ পুষ্পিতার ঘনিষ্ঠ সুবোধ থাপাকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী দেবাশীষ বর্মনের দাবি, প্রায় ১২ বছর আগে শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পুষ্পিতা রায় ডাকুয়া ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে মোট আট লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নগদ এবং আড়াই লক্ষ টাকা পুষ্পিতার ঘনিষ্ঠ সুবোধ থাপার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। দেবাশীষকে একটি ভুয়ো নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে প্রতারিত ওই যুবককে পুষ্পিতার বাড়িতে ডেকে এনে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে। দেবাশীষের আক্ষেপ, “টাকার শোকে আমার বাবার মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”
পুলিশ সূত্রে খবর, টাকা লেনদেনের কারবার মূলত সুবোধ থাপার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই চলত। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, সুবোধকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই প্রতারণা চক্রের মূল পান্ডাদের নাম এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও জোর তল্লাশি চলছে।
২০০৩ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পুষ্পিতা রায় ডাকুয়া ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে চাকরির নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। যদিও বর্তমানে পুষ্পিতার মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই প্রসঙ্গে বলেন, “দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযুক্ত প্রভাবশালী প্রাক্তন নেত্রীর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণা কাণ্ডে আর কোন কোন রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসে।

