উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ড (Jharkhand Protest)। সরকারের সঙ্গে তিন দফা ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। রাঁচির ওল্ড বিধানসভা গ্রাউন্ড থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন পড়ুয়া।
রবিবার সরকারের সঙ্গে পড়ুয়া প্রতিনিধিদের আলোচনা ভেস্তে যায়। ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) (JSSC)-এর কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) (CGL) পরীক্ষা বাতিল এবং পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, সরকারের দাবি, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি তারা মেনে নিয়েছে। তিনটি পরীক্ষা বাতিল, জেসপিসি পরীক্ষার আর্থিক অনিয়মিতার তদন্তে ইডি (ED) বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে দিয়ে তদন্তের প্রস্তাব সহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে হেমন্ত সোরেন প্রশাসন। তবে সিবিআই তদন্তের দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে সরকার।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত আট দিন ধরে আমরণ অনশনে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি পড়ুয়াদের এই ‘নির্ধারক লড়াইয়ে’ শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাঁচি ও জামশেদপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিধানসভার চারপাশে ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী।
ইতিমধ্যে, জেপিএসসি (JPSC)-র দুর্নীতির তদন্তের মাঝেই পদত্যাগ করেছেন তিন সদস্য— অজিিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদ। সিআইডি তলব করার পরেই তাদের এই পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে বড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আগের দিনই জেপিএসসি চেয়ারম্যান পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন এল খিয়াংতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাংওয়ার পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও আজ সোমবারের এই বড় জমায়েত ও মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজ্যজুড়ে।

