উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল চাতরা জেলা। মাঝ আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমারিয়ার জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ল একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত আরোহীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
মৃত ও আহতদের পরিচয়
বিমানে একজন রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক, দুজন অ্যাটেনডেন্ট এবং দুইজন পাইলট ছিলেন। মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জয় কুমার (৪১)। তিনি অগ্নিদগ্ধ (Burn Affected person) অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচি থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় বাকি ছয় আরোহী আহত হয়েছেন, যাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
• উড্ডয়ন: সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।
• যোগাযোগ: ওড়ার পর বিমানটি কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল।
• বিচ্ছিন্নতা: সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে বিমানটির সঙ্গে কলকাতার র্যাডার ও রেডিও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
• উচ্চতা: সেই সময় বিমানটি ১৪ হাজার ফুট (F140) উচ্চতায় উড়ছিল এবং ১৮ হাজার ফুটে (F180) ওঠার জন্য অনুমতি চেয়েছিল।
• গন্তব্য: রাত ১০টা নাগাদ বিমানটির দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
উদ্ধারকাজ ও তদন্ত
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই চাতরা জেলা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাটি দুর্গম এবং জঙ্গলঘেরা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (AAIB)-র একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি আবহাওয়া—দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখবে এই তদন্তকারী দল।
প্রশাসনের তৎপরতা
চাতরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিমানে থাকা চিকিৎসক ও ক্রু সদস্যদের অবস্থা স্থিতিশীল কি না, তা নিয়ে এখনও বিশদ রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
