জটেশ্বর: উত্তরবঙ্গের চা-বলয় ছাড়িয়ে এবার লোকালয়ে চিতাবাঘের হানা। সোমবার বিকেলে ফালাকাটা ব্লকের ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিসাবাড়ি এলাকায় চিতাবাঘের আক্রমণে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মাগুরটারি গ্রাম। দিনদুপুরে কিশোরী সহ সাতজনকে জখম করার পর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল পূর্ণবয়স্ক সেই চিতাবাঘটির। বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে পশুটিকে।
আলপথ থেকে শুরু আতঙ্ক
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ। বাড়ির পাশের সরষে ক্ষেতের আলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাতই এক কিশোরীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি চিতাবাঘ। কিশোরীর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা উদ্ধার করতে ছুটে এলে উন্মত্ত বাঘটি একে একে আরও ৫ জনের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয়দের দাবি, কারও ঘাড়ে, কারও মাথায় আবার কারও পায়ে কামড়ে দেয় বুনোটি। এই অতর্কিত হামলায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার বনাম পিটিয়ে হত্যা?
খবর পেয়ে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ এবং দলগাঁও রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি সরষে ক্ষেতের ধারে চিতাবাঘটিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। বনদপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চিতাবাঘটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লোকালয়ে ঢুকে পড়ার পর উন্মত্ত জনতার গণপিটুনিতেই প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
বনদপ্তর ও পুলিশের বক্তব্য
জলপাইগুড়ি ডিভিশনের ডিএফও বিকাশ ভি জানিয়েছেন, “একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সেটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনায় জড়িত নির্দিষ্ট কারও নাম এখনও পাওয়া যায়নি, তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।” অন্যদিকে, জটেশ্বর ফাঁড়ির ওসি দেবাশীষ রঞ্জন দেব জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
