জঙ্গিপুর: পথের কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুনের ছক কষেছিলেন খোদ স্ত্রী। সেই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষে সোমবার যুগান্তকারী রায় দিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। সুপারি কিলার লাগিয়ে স্বামী প্রবীর দাসকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত স্ত্রী রাখি দাস এবং তাঁর দুই সঙ্গী সৌমেন দাস ও আজমাউল শেখকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের এই রায়ে খুশি নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সেই অভিশপ্ত ২০২৩
২০২৩ সালে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হন পেশায় ব্যবসায়ী প্রবীর দাস। প্রাথমিক তদন্তে এটি নিছক অপরাধ মনে হলেও, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, রাখি দাস তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার দীর্ঘ পরিকল্পনা বা ‘ব্লু প্রিন্ট’ তৈরি করেছিলেন। এরপর ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় প্রবীরকে।
আদালতের রায় ও শাস্তি
জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক দ্বিতীয় কোর্টের বিচারক সোমবার অভিযুক্ত তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। রায়ে জানানো হয়েছে:
• শাস্তি: দোষীদের আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• জরিমানা: প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘বিচার ব্যবস্থার জয়’: উচ্ছ্বসিত সরকারি আইনজীবী
এই দ্রুত ও কঠোর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি আইনজীবী সমীর কুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দোষীরা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন তাঁদের কারাগারেই থাকতে হবে। এটি শুধুমাত্র কয়েক বছরের শাস্তি নয়, আমৃত্যু কারাবাস। এত দ্রুত রায় ঘোষণার ফলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”
এদিন রায়কে ঘিরে আদালত চত্বরের বাইরে উৎসুক মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। নিহতের পরিবার এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, তাঁরা অবশেষে বিচার পেলেন। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় জঙ্গিপুরের আইন মহলেও এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকল।
