জামালদহ: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে (Jamaldaha pupil loss of life) কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মেখলিগঞ্জের জামালদহ। শুক্রবার মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মেখলিগঞ্জ থানায়। বিকেলে ময়নাতদন্তের পর দেহ ফিরতেই ১৬-এ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পরিজন ও স্থানীয় মহিলারা। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে জামালদহ সচেতন হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে আগামীকাল জামালদহে ১২ ঘন্টার বনধ-এর ডাক দেওয়া হয়েছে।
মৃতার পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী ওই যুবক দীর্ঘ দিন ধরে মেয়েটিকে উত্যক্ত করত। তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল। ছাত্রীর মোবাইল ফোনের কথোপকথন থেকে এই তথ্য মিলেছে বলে পরিবারের দাবি।
শুক্রবার বিকেলে মাথাভাঙ্গা থেকে ময়নাতদন্ত শেষ করে অ্যাম্বুল্যান্সে দেহ ফিরতেই জামালদহ তুলসী দেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাজ্য সড়কে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মাথাভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় জানান, পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।” যদিও পুলিশ কোনো দীর্ঘস্থায়ী পথ অবরোধের কথা অস্বীকার করেছে।
কয়েক দিন আগেই জামালদহে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। জামালদহ সচেতন নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে ভক্ত রায় জানিয়েছেন, দোষীর কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নিজের ঘরেই ওই কিশোরীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি তাঁকে জামালদহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই এক স্থানীয় যুবক মেয়েটিকে উত্যক্ত করছিল। পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর থেকেই ওই যুবকের নম্বর থেকে ক্রমাগত ফোন এবং মেসেজ আসতে থাকে। পরিবারের দাবি, এই ঘটনাই মেয়েকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। অভিযোগের তির ওই যুবকের দিকেই।
