Jamaldaha | মহালয়ায় ভদ্রকালীর সঙ্গে পিরবাবার আরাধনা

Jamaldaha | মহালয়ায় ভদ্রকালীর সঙ্গে পিরবাবার আরাধনা

শিক্ষা
Spread the love


প্রতাপকুমার ঝাঁ, জামালদহ : বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় ধর্মান্ধতা ও উগ্র ধর্মীয় বিভাজনের মাঝে মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহের(Jamaldaha) কালীপুজো সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। প্রতি বছর জামালদহের বনাঞ্চলের ভিতরে সুসজ্জিত মন্দিরে অগণিত ভক্তবৃন্দ মা ভদ্রকালীর আরাধনায় মেতে ওঠেন। মা কালীর সঙ্গে সেখানে একই অঙ্গনে পিরবাবার আরাধনা করা হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এবছর এই পুজোর ৩৩তম বর্ষ। পুজো উপলক্ষ্যে ১০০ জনের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ জমজমাট হয়ে উঠবে। পুজো কমিটির সভাপতি রমেশ দেবনাথের কথায়, ‘মহালয়ার দুপুরে অন্য দেবদেবীর সঙ্গে পিরবাবার আরাধনা করা হয়। রাতে মা কালীর পুজো হয়। পুজোকে ঘিরে বলি প্রথার প্রচলন রয়েছে। পাঁঠা, পায়রা ও কুমড়ো বলি দেওয়া হয়।’
জামালদহ(Jamaldaha) বাজারের অদূরে রাজ্য সড়কের দু’পাশে প্রায় ৯০০ বিঘা জমিতে এই বনাঞ্চল গড়ে উঠেছে। এর কয়েকশো মিটার ভিতরে গভীর জঙ্গলে মা ভদ্রকালীর মন্দির অবস্থিত। সেখানে কালীর পাশাপাশি একাধিক মন্দির রয়েছে। সারাবছর কমবেশি অনেকে এখানে মায়ের কাছে মানত করে যান। প্রতি বছর মহালয়ায় এখানে একদিনের মেলা বসে। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। জামালদহ তুলসী দেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিদ্ধার্থ নিয়োগীর কথায়, ‘এই বন একসময় জংলীয়া নামে এক ভয়ংকর ডাকাতের আস্তানা ছিল। জঙ্গলের মাঝে তাঁরা ডাকাতি করে পাওয়া জিনিসপত্রের ভাগবাঁটোয়ারা করতেন। কথিত আছে, পরে সেই ডাকাতের ঝুলন্ত দেহ জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৯৯২ সাল থেকে এই পুজো শুরু হয়। সেই সময় জহিরুল হক জামালদহ ফরেস্ট অফিসার ছিলেন। তিনি উদ্যোগ নিয়ে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এই পুজো শুরু করেন। পরে এই পুজোর জৌলুস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মন্দির প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভক্তদের জন্য বিশ্রামের জায়গা তৈরি হয়েছে। জামালদহ বনাঞ্চলের বিট অফিসার সুনীল রাভার বক্তব্য, ‘এই পুজোকে ঘিরে সকলের মধ্যে উন্মাদনা থাকে। বন বিভাগের তরফে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।’
জামালদহ যৌথ বন সুরক্ষা কমিটির সভাপতি হিমাংশু রায় মাঝি জানান, পুজো উপলক্ষ্যে একদিনের মেলা বসে। তবে মন্দিরে প্রবেশের মূল রাস্তাটি বেহাল। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক। কারণ এই মন্দিরের সঙ্গে সকলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। পুজো কমিটির তরফে স্থানীয় শিল্পী সমন্বয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর মহালয়ায় এই বনাঞ্চল সর্বধর্মসমন্বয়ের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *