Jalpaiguri | সিলিন্ডার টানার দিন শেষ! জলপাইগুড়ির ঘরে ঘরে এবার পাইপলাইনের গ্যাস, খরচ কমবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত

Jalpaiguri | সিলিন্ডার টানার দিন শেষ! জলপাইগুড়ির ঘরে ঘরে এবার পাইপলাইনের গ্যাস, খরচ কমবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) হেঁশেলে এখন পাইপলাইনের গ্যাসের জয়জয়কার। বড় বড় সিলিন্ডার টানাটানির দিন শেষ করে এবার সরাসরি পাইপলাইনেই রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিচ্ছে হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)। জেলার শহর ও শহরতলি এলাকায় এই কাজ চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যে ৫ হাজার ১০০টি পরিবার এই পরিষেবার সুবিধা নিতে শুরু করেছে।

জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়া জলপাইগুড়ি পুরসভা এলাকা, পাতকাটা ও মোহিতনগরের বহু বাড়িতেই পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে জলপাইগুড়ি শহর ও পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকা মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার বাড়িতে এই সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনীতা রাউত জানান, তাঁদের এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

লাইনের গ্যাস ব্যবহারের সুবিধার কথা শোনা গেল উপভোক্তাদের গলায়। পাতকাটার বাসিন্দা কল্যাণী মণ্ডল বলেন, ‘রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম খুব বেড়েছে। কিন্তু পাইপলাইনের গ্যাসে সেই মূল্যবৃদ্ধির চাপটা সেভাবে বোঝা যাচ্ছে না। আমার যতটুকু চাহিদা, ঠিক ততটুকুই গ্যাস ব্যবহার করছি।’ পাহাড়পুর এলাকার বাসিন্দা রাখি ঘোষের গলাতেও স্বস্তির সুর। তাঁর কথায়, ‘এই গ্যাসে রেগুলেটর ফিটিং করা বা রবার রিং নষ্ট হওয়ার ঝামেলা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও ভয় নেই।’ তবে এতে খরচ কমল না বাড়ল, তা নিয়ে এখনই মন্তব্যে নারাজ ‘সাবধানি’ রাখি। বললেন, ‘মাস ফুরোলে বোঝা যাবে সিলিন্ডারের তুলনায় কতটা সাশ্রয় হচ্ছে।’

নিরাপত্তার দিক থেকেও এই গ্যাস অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য বলে দাবি করছে সংস্থাটি। এইচপিসিএল সূত্রে জানানো হয়েছে, সিলিন্ডারে বিউটেন ও প্রোপেন গ্যাস তরল অবস্থায় থাকে। কিন্তু পাইপলাইনের গ্যাস হল প্রাকৃতিক মিথেন গ্যাস। এই গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা, তাই লিক করলেও খুব দ্রুত বাতাসে মিশে যায়। ফলে বড় কোনও দুর্ঘটনার ভয় থাকে না বললেই চলে। সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে কিন্তু গ্যাস লিক করার ঘটনা বেশ বিপজ্জনক।

সংস্থার উত্তরবঙ্গের চিফ ম্যানেজার চরণ্য কুমার জানান, ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার ১০০ বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার কাজ পুরোপুরি শেষ। এপ্রিলের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। এই গ্যাস ব্যবহারে গ্রাহকদের মাসে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খরচ কমবে বলে তিনি দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পের কাজ টাকার অভাবে কিছুটা থমকে থাকলেও রান্নার গ্যাসের এই আধুনিক পরিষেবা জলপাইগুড়িবাসীর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *