উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fireplace) ঘটনায় ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জনেরও বেশি। এদিকে, এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ (Narendrapur Police) গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করে। পরে বারুইপুর জেলা পুলিশ (Baruipur) তাঁর গ্রেপ্তারি নিশ্চিত করে। যদিও অভিযুক্ত মালিকের দাবি, দুর্ঘটনার দায় ওই মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার, যারা জমিটি লিজে নিয়েছিল।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ নাজিরাবাদের ওই জোড়া গুদামে আগুন লাগে। ভস্মীভূত ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হওয়ায় মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশের তরফে জোড়া মামলা রুজু করা হয়েছে। একদিকে দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং অন্যদিকে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত গঙ্গাধর দাসের দাবি, আগুন লেগেছে পাশের মোমো কারখানা থেকে। তবে তদন্তকারীরা সবদিক খতিয়ে দেখছেন।
দমকলের ডিজি রণবীর কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, গুদাম দু’টির কোনও অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র ছিল না। জলাভূমি ভরাট করে বেআইনিভাবে এই গুদামগুলো চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কারও রুটিরুজি বন্ধ করা ঠিক নয়, তবে জলাভূমি ভরাটের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। আপাতত বুধবার ধৃত মালিককে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
