Jalpaiguri | জেব্রা ক্রসিং মানেন না কেউই! ট্রাফিক নিয়ম উড়িয়ে যাতায়াত, যানজটে দুর্ভোগ 

Jalpaiguri | জেব্রা ক্রসিং মানেন না কেউই! ট্রাফিক নিয়ম উড়িয়ে যাতায়াত, যানজটে দুর্ভোগ 

শিক্ষা
Spread the love


অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি শহরের (Jalpaiguri) কদমতলা মোড়, বেগুনটারি মোড়, দেশবন্ধুপাড়া সহ প্রধান ডাকঘরের সামনে প্রায় সময়ই দেখা যায় রেড সিগন্যালে অস্থির পরিবেশ। সিগন্যালের মুখে টোটোচালক, বাইকচালক কিংবা চারচাকা চালক কেউই মানছেন না জেব্রা ক্রসিং।

শুধুমাত্র জেব্রা ক্রসিংই নয়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় রেড সিগন্যালে গোটা রাস্তা আটকে যানবাহন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকে। আবার কারও কারও এতটাই তাড়া যে, রেড সিগন্যাল দেখলেও যেতে হবে সব নিয়ম ভেঙে। পথচারীরাও যে কোনও জায়গায় হাত দেখিয়ে পারাপার করছেন রাস্তা। জেব্রা ক্রসিং যেন তাঁদের চোখেই পড়ে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা কদমতলা কিংবা পোস্ট অফিস মোড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যাবে জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে যানবাহন নিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে। আগে এভাবে জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করে দাঁড়ালে ট্রাফিক পুলিশের তরফে জরিমানা করা হত। এখন আর জরিমানার বালাই নেই। যার যেভাবে খুশি চলছেন, দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সিগন্যালে যাত্রী ওঠানামাও করাচ্ছে টোটো। এতে পথচলতি মানুষ রাস্তা পারাপার করছেন ঝুঁকি নিয়ে। কিছু জায়গায় তো জেব্রা ক্রসিংয়ের রেখা উধাও।

যানজট সমস্যা নিয়ে উকিলপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী অনুপ দাস বলেন, ‘যে যার মতো গাড়ি, বাইক, টোটো নিয়ে যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ছে। রাস্তাটা চওড়া কম বলে একের পেছনে অপর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট হচ্ছে। ক্রেতারা দোকানে আসতে পারছেন না। প্রশাসনের উচিত এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা।’

এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি সদর ডিসিপি (ট্রাফিক) অরিন্দম পাল চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রাফিক আইন অনুযায়ী জেব্রা ক্রসিং, সিগন্যাল, লাইন সব মানা হচ্ছে কি না সেটার উপর নজর রাখছে পুলিশ। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার কথা বলা হয়। ট্রাফিক পুলিশের এক অফিসারের কথায়, ‘সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। আর যে সংস্থার জেব্রা ক্রসিং আঁকার কথা তাদেরও জানানো হয়েছে। দ্রুত সেই লাইন এঁকে দেওয়া হবে।’

ট্রাফিক সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও শহরের মানুষের হাতেই লঙ্ঘিত হচ্ছে তা। আর এতেই বাড়ছে যানজট। বিশেষ করে কদমতলা, বেগুনটারি, দেশবন্ধুপাড়া এবং শান্তিপাড়া একটি সোজা রাস্তায় থাকায় কোনও এক জায়গায় সিগন্যাল ভাঙলে সম্পূর্ণ দুই কিলোমিটার দীর্ঘপথে যানজট সমস্যায় পড়ছেন হাজারো মানুষ। কারণ, এই একটি রাস্তা তিন নম্বর রেলগুমটি থেকে সোজা কলেজপাড়ায় গিয়েছে। আর এটাই শহরের সবচেয়ে ব্যবহৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তায় যানজট হলে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে গোটা শহর।

প্রবীণ নাগরিক সোমেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘কদমতলা, প্রধান ডাকঘর, থানা মোড় বা ডিবিসি রোডের চার মাথা মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হাঁটলে কোনও যানবাহনকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায় না। তাই প্রতিটি শহরবাসী সহ চালকদের বোঝানো উচিত জেব্রা ক্রসিং কেন দেওয়া হয়। আর এর গুরুত্বই বা কী? না হলে এই পরিস্থিতির কোনওদিন উন্নতি হবে না, বরং অবনতি হবে বলে তাঁর মত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *