Jalpaiguri | গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অনুন্নয়নের কাঁটা! ধূপগুড়ি-ময়নাগুড়িতে তৃণমূলের ‘মুশকিল আসান’ হতে পারবেন দুলাল?

Jalpaiguri | গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অনুন্নয়নের কাঁটা! ধূপগুড়ি-ময়নাগুড়িতে তৃণমূলের ‘মুশকিল আসান’ হতে পারবেন দুলাল?

শিক্ষা
Spread the love


নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পুর এলাকার অনুন্নয়ন, ভোটব্যাংকের ভাঙন ও প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ি বিধানসভায় জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এসব সামাল দিয়েই তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আজ দ্বিতীয় কিস্তি

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: একদিকে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ধূপগুড়িতে (Dhupguri) দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দলকে চাপে ফেলছে। অন্যদিকে, ময়নাগুড়িতে (Mainaguri) প্রার্থী নির্বাচন, পুর এলাকার অনুন্নয়ন ও সাংগঠনিক বিভাজন দলীয় নেতৃত্বকে ভাবাচ্ছে। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব পেয়ে দুলাল দেবনাথকে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। মুশকিল আসান হিসেবে ঐক্যই কাজ দেবে বলে দুলালের দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁর কথায়, ‘নতুন-পুরোনো সকলকে নিয়েই আলোচনা করে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।’

ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের নির্বাচনে বামেদের ভোট ধরে রাখতে না পারার ফলেই তৃণমূলের পরাজয় ঘটেছিল। সেই ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়াতেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বিজেপি বিধায়কের অকালমৃত্যুর পরে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মহকুমা স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নের আশ্বাসে তৃণমূল সেই উপনির্বাচনে জয় পেলেও সময়ের সঙ্গে সেই আবহে ভাটা পড়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটব্যাংক ফের দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিধানসভা বৈঠক ও নীচুতলার কর্মীদের প্রতিক্রিয়াতেই কোঅর্ডিনেটর সেই বাস্তবতা টের পাচ্ছেন।

ধূপগুড়িতে দলের অন্দরে সমস্যার তালিকাও দীর্ঘ হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ এলাকার নেতাদের সঙ্গে শহর নেতৃত্বের বোঝাপড়া কার্যত নেই। দলের বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের সঙ্গে একাংশ নেতৃত্বের দূরত্বও কাটেনি। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে পুরভোট না হওয়ায় ধূপগুড়ি পুরসভা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নাগরিকরা ন্যূনতম পরিষেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বাড়ছে। মহকুমা স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও সরকারি কাজের জন্য জলপাইগুড়ি যেতে হওয়ায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে। শহরে এখনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে না ওঠা ও মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এছাড়াও তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতা রাজেশ সিং ও অপু দে-র মনোমালিন্য সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করছে। জেলা সভাপতি মহুয়া গোপকে কেন্দ্র করে গঠিত পাঁচ সদস্যের কোর কমিটির কাজকর্ম নিয়েও আপত্তি রয়েছে। দুলালের সঙ্গে মহুয়ার সখ্য না থাকায় পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা নিয়ে কর্মীরা ধন্দে রয়েছেন। রাজবংশী ও কামতাপুরি ভোটব্যাংকের পাশাপাশি বানারহাট ব্লকের অবাঙালি ভোটও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। এই প্রসঙ্গে দুলালের প্রতিক্রিয়া, ‘পরিস্থিতি বুঝেই দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। বিধায়ক ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেই আমি কাজ শুরু করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনেই সংগঠনকে শক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। এতদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব মনোজ রায়, শিবশংকর দত্ত ও শশাঙ্ক রায় বসুনিয়ার উপর থাকলেও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল যুবর জেলা সভাপতি রাজবংশী মুখের ঘনিষ্ঠ সিভিক পুলিশ রামমোহন রায়ের উত্থানে রাজনীতির পাশার চাল বদলে গিয়েছে। তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করা হতে পারে বলেও জোর জল্পনা চলছে। কিন্তু শহরের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো নয় বলে দলের অন্দরে মতভেদ তৈরি হয়েছে। রামমোহন প্রার্থী হলে তৃণমূল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকবে বলে কর্মীদের একাংশ মনে করছেন। তবে তার জন্য কোঅর্ডিনেটরকে মনোজ রায়, শিবশংকর দত্ত ও শহর নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় গড়তেই হবে। বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়কে এলাকায় খুব একটা সক্রিয় না পাওয়াকে তৃণমূল ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছে। তবে বিজেপি রাজবংশী মুখকে প্রার্থী করলে লড়াই আরও কঠিন হবে।

পুরসভা এলাকায় নতুন প্রকল্পের অভাব, করের বোঝা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা তৃণমূলের (TMC) সামনে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। পুর এলাকার নাগরিকদের একাংশ পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকেই তুলনায় ভালো বলে মনে করছেন। গত লোকসভা ভোটে ময়নাগুড়ি পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতেই বিজেপির (BJP) এগিয়ে থাকা দলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বুথ কমিটি গঠন নিয়েও নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সব সামলে তৃণমূল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *