অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: আর কয়েকদিন পরেই রামনবমী। শহরজুড়ে (Jalpaiguri) একদিকে যেমন রামনবমীর প্রস্তুতি চলছে, তেমনি অপরদিকে ভোটের প্রচারও চলছে জোরকদমে। শহরের টেম্পল স্ট্রিট, দিনবাজার সহ বিভিন্ন দোকানে দেখা মিলছে গেরুয়া রঙের পতাকা, টুপি, ব্যান্ডেনা সহ বিভিন্ন সামগ্রীর। কোনও পতাকায় বড় করে আঁকা রয়েছে রামের ছবি, আবার কোনওটিতে রয়েছে হনুমানের ছবি। শুধু পতাকা নয়, রামনবমী স্পেশাল টি-শার্টও মিলছে বাজারে। শহরের রাস্তাগুলিকে গেরুয়া রংয়ের পতাকা দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
রামনবমীর এই প্রস্তুতিপর্ব আয়ের পথ দেখাচ্ছে রাজু আগরওয়াল, সঞ্জয় সাহাদের। বিক্রেতা রাজু সোমবার গেরুয়া পতাকা, কুর্তা বিক্রির ফাঁকে বললেন, ‘পতাকা, কুর্তা থেকে শুরু করে টি-শার্ট অনেক কিছুই এনেছি দোকানে। যদিও বছরদুয়েক আগে পর্যন্তও রামনবমীর জন্য দোকানে তেমন কিছু বিক্রি হত না, তবে এখন বেশি বিক্রি হয়, তাই রামনবমী উপলক্ষ্যে নানা ধরনের জিনিস রাখছি।’
আবার দিনবাজারের ব্যবসায়ী শান্তনু রায় জানান, তিন-চার বছর আগে রামনবমী উপলক্ষ্যে এক-দুটি পতাকা বিক্রি হত। আগে এই উত্সবটির জন্য এত বড় করে আয়োজন করা হত না। তবে, গত দু’বছরে ছবিটি বদলেছে। অন্য উত্সবের মতো রামনবমীও জাঁকজমক করে পালন করা হচ্ছে। রামনবমী পার হয়ে গেলে ফের দোকানে গরমের জামাকাপড় বিক্রি শুরু হবে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
টেম্পল স্ট্রিটের বিক্রেতা সঞ্জয়ের কথায়, ‘আমি দোকানে গেরুয়া পতাকা, টুপি, ব্যান্ড, বাইকে লাগানোর মতো পতাকা বিক্রি করছি। এই ধরনের দিনগুলিকে কেন্দ্র করেই তো আমাদের ব্যবসা চলছে।’
রামনবমী উপলক্ষ্যে প্রতিবছর গেরুয়া পতাকার বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ করে বাড়ছে বলে জানান শহরের ব্যবসায়ীরা। ৮ টাকা থেকে শুরু ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের পতাকা। বাইকে লাগানোর পতাকাগুলি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে। ১০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গেরুয়া কুর্তা, টি-শার্ট, ৫ টাকা থেকে মাথায় বাঁধার কাপড়, ব্যান্ডেনা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাচ্চাদের জন্য গদা ৭০ টাকা করে, হনুমানজি’র ব্যাজ ১০ টাকা করে, হ্যাঙ্গিং ফ্ল্যাগ রোল ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
এদিন বাজারে গেরুয়া পতাকা ও টুপি কিনতে এসেছিলেন সৌমেন সাহা। তাঁর কথায়, ‘গত দু’বছর ধরে আমাদের শহরে রামনবনীর মিছিল হচ্ছে। উত্সবটিকে বড় করে উদযাপন করা হচ্ছে। এবছর আমিও এই উৎসবে যোগ দেব বলে রামনবমী স্পেশাল পতাকা ও টুপি কিনতে এসেছি।’ শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর ব্যবসায়ীরা প্রায় লক্ষাধিক টাকার এই সরঞ্জাম বিক্রি করেছিলেন। প্রতি বছর রামনবমী স্পেশাল দোকানের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান তাঁরা।
