অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: ৭৩ মোড় থেকে ঝা বাড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিমি পথে নেই কোনও পথবাতি। ৭৩ মোড়ের পর দ্বিতীয় হাইমাস্টটি রয়েছে ঝা বাড়ি মোড়ে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে নেশা ও অন্যান্য অসামাজিক কাজ চলছে বলে অভিযোগ। সন্ধ্যার পর ওই রাস্তায় যাতায়াতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই পথ ধরেই জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) থেকে শিলিগুড়ি যাওয়া যায়। পাশাপাশি মোহিতনগর থেকে ওই পথ ধরেই যাওয়া যায় হলদিবাড়ি। এই রাস্তা দিয়ে গোমস্তপাড়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাওয়া যায়। তারপরেও প্রশাসন রাস্তায় পথবাতির বন্দোবস্ত করতে কোনও পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ।
প্রতিদিন এই পথে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন বছর পঞ্চাশের প্রহ্লাদ বর্মন। তিনি জানান, অন্ধকার রাস্তায় হঠাৎ বড় গাড়ির আলো চোখে পড়লে কিছু দেখতে পাই না। তার ওপর এখন যা দিনকাল পড়ছে, অন্ধকারে কেউ চুরি-ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হানা দিলে কী করব। সেসব ভেবেই ভয় হয়।’
প্রায় ২ কিমি ওই রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। অবশ্য দেড় কিমিরও বেশি অংশ খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। সমস্যার কথা জানলেও কোনও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এবিষয়ে অবশ্য খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাঁকন অধিকারী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই রাস্তায় সোলার লাইট লাগানোর। কিন্তু ফান্ডের অভাবে কাজ করতে পারছি না।’
পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এমন কথা জানালেও স্থানীয়রা সেসব শুনতে নারাজ। স্থানীয় মহিলারাও যথেষ্ট বিরক্ত। মহিলাদের যুক্তি, এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে রীতিমতো গা ছমছম করে। স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণিমা দাসের কথায়, ‘এই রাস্তাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ধ্যার পরেও প্রচুর মানুষের পাশাপাশি খুদেরাও টিউশন থেকে এই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরে। পাশাপাশি বাইক, টোটো, ভ্যানের সঙ্গে বাস, ট্রাক যাতায়াত করে। আসামাজিক কাজকর্ম চলে রাস্তার ধারে। যাতায়াত করতে খুব ভয় লাগে।’
অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল অবশ্য জানিয়েছেন এই পথে আলো দেওয়ার প্রোজেক্ট নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। তিনি বলেন, ‘বাজেট তৈরি করতে গিয়ে দেখি প্রচুর টাকার প্রয়োজন। এবছরের বাজেটে তা পাশ করা সম্ভব নয়। তাই আগামীতে আমরা জেলা পরিষদের থেকে কিংবা অন্য কোনও সরকারি ফান্ডের সাহায্যে এই পথে উপযুক্ত আলোর ব্যবস্থা করব।’
কিন্তু দুই পঞ্চায়েতের প্রধানরা যাই বলুন না কেন, সময় যত এগোচ্ছে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত এই রাস্তায় আলো লাগানো না হলে সেই ক্ষোভের আঁচ আরও তীব্র হবে।
