Jalpaiguri | কাটছে ভয়, কৃষ্ণ এলাকাছাড়া হতেই জমি পুনরুদ্ধার

Jalpaiguri | কাটছে ভয়, কৃষ্ণ এলাকাছাড়া হতেই জমি পুনরুদ্ধার

শিক্ষা
Spread the love


সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস এলাকাছাড়া হতেই জমি পুনরুদ্ধার করে চাষাবাদ শুরুর পথে বারোপাটিয়া এলাকার তিস্তাপারের কৃষকরা (Jalpaiguri)। শুক্রবার বারোপাটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের  নাথুয়ারচর এলাকায় বছরের পর বছর ধরে কৃষ্ণর দখলে থাকা জমিগুলি পুনরুদ্ধার করলেন জমির প্রকৃত দখলদাররা। অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কৃষ্ণ হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি দখল করেন। কখনও বাইরে থেকে জমি মাফিয়াদের এনে মোটা অঙ্কের  টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাতে সেসব জমি তুলে দিয়েছিলেন। কখনও নিজের লোকজনকে দিয়ে সেই জমিতে চাষাবাদ করিয়ে ফসল বিক্রির টাকা নিয়েছেন। জমি ফেরত চাইলেই লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করা হত। জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও কৃষ্ণ ও তাঁর অনুগামীরা স্থানীয়দের থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে তাঁদের কপালে জুটত কৃষ্ণ-বাহিনীর মারধর। কৃষক দিবাকর রায় বলেন, ‘আমার ছয় বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা জমি কৃষ্ণর হয়ে রণজিৎ দাস দখল করেছিলেন। জমি ফেরত দিতে কৃষ্ণ আমার  কাছে প্রথমে এক লক্ষ টাকা নেন। পরে আরও তিন লক্ষ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারায় আমার দু’বিঘা জমিতে কৃষ্ণ বাহিনী ঝান্ডা পুঁতে দখল নেয়। এই ঘটনা উল্লেখ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলাম। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এদিন সেই দুই বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করলাম।’

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভার রংধামালি কেষ্ট মোড় থেকে গৌরীকোণ,  নাথুয়ারচর হয়ে টাকিমারির চর পর্যন্ত তিস্তার চরে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। অনেক বছর ধরে সেখানে কৃষকরা ধান, আলু, বাদাম, ভুট্টা ও মরশুমি সবজি চাষ করে আসছেন। অভিযোগ,  ২০২২ সাল থেকে কৃষ্ণ এলাকার মানুষকে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি দখল করেন। প্রশ্ন উঠেছে, কৃষ্ণ নিজেই এসব করতেন নাকি তাঁর হয়ে অন্য কেউ এই কাজে যুক্ত ছিলেন? এলাকাবাসীকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই বারোপাটিয়া, নাথুয়ারচর এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষ্ণ অনুগামীর নাম উঠে এল। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী পীযূষ দাস, রণজিৎ দাস, রতন দাস ও বিভাস দাস সহ ১০-১২ জনের নামের তালিকা তৈরি করেছেন, যাঁরা মূলত কৃষ্ণের হয়ে জমি দখল করতেন।

দিবাকরের কথার প্রসঙ্গ টেনে ভগীরথ দাস নামে আরেক কৃষক জানান, তিনি ২০  বছরের বেশি সময় ধরে তিস্তার চরে ১৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ২০২৩ সালে কৃষ্ণ ও তাঁর বাহিনী তাঁর জমির দখল নেয়। তিন বছর কৃষ্ণর অত্যাচারের ভয়ে জমিতে যেতে পারেননি। এদিন দিবাকর, ভগীরথের মতো প্রায় ১৫০ জন কৃষক কৃষ্ণের দখলীকৃত জমিগুলি পুনরুদ্ধার করেন। নাথুয়ারচরে কৃষ্ণর অনুগামী হিসেবে পরিচিত রণজিৎ দাসের বাড়িতে গিয়েও  এদিন তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে সুবোধ দাসের অবশ্য বক্তব্য, ‘বাবা বাইরে আছেন। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *