অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: দিন পঁচিশেক আগের কথা। প্রবল বৃষ্টিতে তোর্ষা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় সেই জল ঢুকে পড়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের (Jaldapara Nationwide Park) বিভিন্ন জায়গায়। একদিকে বন্যপ্রাণীরা ক্ষতির মুখে পড়ে। তেমনই জলদাপাড়ার ঘাসবনের বড় অংশ ক্ষতির মুখে পড়ে। পলি জমে বিভিন্ন জায়গায় ঘাসবন নষ্ট হয়। সেই ছবি যেন কিছুটা বদলাতে চলেছে। নিম্নচাপের ফলে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা যখন ক্ষতির মুখে, তখন উলটো ছবি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরছে ঘাসবনে। দু’দিনের বৃষ্টিতেই বেশ কয়েক জায়গার ঘাসে প্রাণসঞ্চার হয়েছে।
জাতীয় উদ্যানের ডিএফও পারভিন কাশোয়ান বলেন, ‘বৃষ্টিতে তো লাভ হবেই। তবে সেটা কতটা, তা বৃষ্টি কমার পর পর্যবেক্ষণ করেই বোঝা যাবে। পলি জমে যে ক্ষতি হয়েছিল সেটা পূরণ করতেও কিছুটা সময় লাগবে।’
অক্টোবরের প্রথমে জলদাপাড়া যে ধাক্কা খায়, সেটা থেকে এখনও বের হতে পারেনি। তোর্ষা নদীর পাড়ে বেশিরভাগ ঘাসবন নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও জঙ্গলের ভেতরে এক ফুট উঁচু পলির স্তর পড়েছে। খাদ্যসংকটে হাতির দল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে লাগাতার হানা দিচ্ছে। এত খারাপ খবরের মাঝে বৃষ্টি যেন স্বস্তি দিচ্ছে বনকর্তাদের। জলদাপাড়ার এক রেঞ্জ অফিসার জানালেন, জঙ্গলের ঘাসের পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি।
শীতকালে তাই বন্যপ্রাণীদের খাওয়ার অভাব থাকে না। কিন্তু এবছর খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে ঘাসগুলো নেতিয়ে পড়েছিল, সেটা দু’দিনের বৃষ্টিতে অনেকটাই তাজা হবে। আবহাওয়া দপ্তর শনিবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
জলদাপাড়ায় এবছর বন্যপ্রাণীদের খাদ্যভাণ্ডার সুনিশ্চিত করতে জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে ১২ রকমের ঘাস লাগানো হয়েছে। চিলাপাতা, কোদালবস্তি, নীলপাড়া, ইস্ট জলদাপাড়া, ওয়েস্ট জলদাপাড়া, নর্থ জলদাপাড়া, লঙ্কাপাড়া এলাকায় ঘাস লাগানো হয়েছিল। চেপ্টি, মধুয়া, মালসা, ভুট্টাঘাস, নল, বনসপাটারি, বাঁশ খাগড়া, কাশিয়া, একরা, পুরুন্ডি, হোগলা, ঢাড্ডার মতো ঘাসগুলোও শীতের শুরুর আগে বৃষ্টিতে আরও তাজা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
