Jaigaon | ব্যাগভর্তি ২০ লক্ষ টাকার মহিলার হাড়, জয়গাঁয় গ্রেপ্তার ২ পাচারকারী

Jaigaon | ব্যাগভর্তি ২০ লক্ষ টাকার মহিলার হাড়, জয়গাঁয় গ্রেপ্তার ২ পাচারকারী

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


জয়গাঁ : ভুটানে পাচারের তালিকায় নয়া সংযোজন মানুষের হাড়। বৃহস্পতিবার রাতে মানুষের হাড় সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জয়গাঁ থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম রাকেশ প্রসাদ ও বিশালকুমার শাহ। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার হাড় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে সেই হাড় নিয়ে আসা হয়েছিল জয়গাঁয়। তবে ভুটানে পাচারের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। জয়গাঁর জিএসটি মোড় এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন এক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে সেই ব্যাগ ভর্তি হাড় সহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। এই পাচারচক্রে আরও কেউ জড়িয়ে রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কেন ভুটানে সেই হাড় পাচার করা হচ্ছিল? প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমান করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশে তন্ত্রবিদ্যায় হাড় ব্যবহার করা হয়। তবে যে-সে হাড় হলে হবে না। হতে হবে মহিলার হাড়। সেদেশে তাই এমন হাড়ের দর ও কদর দুই-ই রয়েছে। একেকটি হাড়ের দাম পড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত রাকেশ জয়গাঁর বাসিন্দা। আর বিশাল হাসিমারার বাসিন্দা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ভুটানে তান্ত্রিক মতে পুজো করতে প্রয়োজন হয় মহিলার হাড়। বাজেয়াপ্ত করা হাড়গুলিও মহিলার বলে জানা গিয়েছে। ব্যাগে ক’টি হাড় রয়েছে তা অবশ্য জানায়নি পুলিশ। জয়গাঁ থানার আইসি পালজার ভুটিয়া বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না দেখা হচ্ছে।’ শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ধৃতরা উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রেনে চেপে বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছান। তারপর শিলিগুড়ি থেকে জয়গাঁর বাস ধরেন। তাঁদের সঙ্গে ব্যাগের মধ্যে হাড় থাকলেও কারও কিছু সন্দেহ হয়নি। এদিকে, পুলিশের কাছে খবর ছিল ব্যাগ ভর্তি করে বন্যপ্রাণীর হাড় পাচার করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী জিএসটি মোড়ে তারা নাকা চেকিং শুরু করে। বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতে ব্যাগ সহ দুজনকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। অনেক রাত অবধি চলে জিজ্ঞাসাবাদ। শুক্রবার ভোরে তাঁরা স্বীকার করেন ব্যাগে রয়েছে মানব হাড়। সেগুলি তাঁরা কোনও সমাধিস্থল থেকে কবর খুঁড়ে পেয়েছেন। পুরোনো হাড় বলেই হয়তো তা থেকে কোনও গন্ধ বের হয়নি।

ধৃতদের মধ্যে রাকেশের বাড়ি জয়গাঁ শহরের দাড়াগাঁও এলাকায়। এলাকায় গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, রাকেশকে নাকি এলাকায় খুব একটা দেখা যেত না। বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরেই থাকতেন। কখনও ভুটান, কখনও বিহার, আবার কখনও উত্তরপ্রদেশে থাকতেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় প্রতিবেশীরা মনে করছেন, হয়তো এই হাড় পাচারের কাজেই বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। প্রতিবেশীদের মতে, হয়তো রাকেশ নিজেই তন্ত্রসাধনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদিও এলাকায় তাঁর আচার-আচরণে তন্ত্রসাধনার কোনও প্রভাব কেউ দেখেননি। কৃষ্ণ কুমার নামে রাকেশের এক প্রতিবেশীর মন্তব্য, ‘ও তো মাসের ৩০ দিনের মধ্যে মাত্র দিন দশেক বাড়ি থাকত। ওদের বাড়ির সকলে একটু কুসংস্কারপ্রবণ। তবে রাকেশ যে হাড় পাচার করতে পারে, এটা শুনে অবাক হচ্ছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *