উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মাঠের লড়াকু মানসিকতা এবার মাঠের বাইরেও দেখালেন বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটের আইকন জাহানারা আলম। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তি। প্রাক্তন অধিনায়ক জাহানারার তোলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রাক্তন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই সিদ্ধান্ত কেবল জাহানারার একার জয় নয় বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিসিবি একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়েছে:
• জাহানারার করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দু’টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
• মঞ্জুরুল ইসলামের আচরণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ‘হ্যারাসমেন্ট’-এর আওতায় পড়ে।
• তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগগুলো দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির কোনো কর্মকাণ্ডে বা ক্রিকেট সংক্রান্ত কোনো পদে রাখা হবে না। যদিও তিনি বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর হয়ে কাজ করছেন।
বিসিবির একাংশ মনে করছেন এই শাস্তি আজীবনের জন্য, অন্য অংশ বলছে এটি পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে বার্তার সুর স্পষ্ট—ক্রিকেট অঙ্গনে কোনো ধরণের অনৈতিক আচরণ সহ্য করবে না বোর্ড। উল্লেখ্য, জাহানারা অভিযোগ তুলেছিলেন প্রাক্তন কর্তা তৌহিদ মেহমুদের বিরুদ্ধেও। তবে তদন্ত চলাকালীনই তৌহিদের মৃত্যু হয় এবং কমিটির রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
