উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ভোরে আফগান সীমান্ত ও খোদ রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধ’ (Open Battle) ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে।
খাজা আসিফের হুঁশিয়ারি ও অপারেশন ‘গাজাব লিল হক’
শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি তালিবান কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে লেখেন:”আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন থেকে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হল।”
এই ঘোষণার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ (Operation Ghazab Lil Haq) শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে কাবুল ও কান্দাহারে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
গত কয়েকদিন ধরে চলা এই সীমান্ত সংঘাত শুক্রবার চরমে পৌঁছায়। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে:
• পাকিস্তানের দাবি: পাক সামরিক বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
• আফগানিস্তানের দাবি: তালিবান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তাদের পাল্টা অভিযানে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
আফগান সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা সীমান্তে পাক বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিল।
হুমকির মুখে কাতার-মধ্যস্থতা
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতার যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে। কাবুলের আকাশে বিমান ও বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তান মূলত আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, টিটিপি (TTP) জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরেই তলানিতে ছিল। শুক্রবারের এই বিমান হামলা এবং পাকিস্তানের ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হল।
