উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান-মার্কিন সংঘাতের আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈপরীত্যপূর্ণ মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘যুদ্ধ প্রায় শেষ’ এবং ‘পুরো জয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে’— এই দুই ভিন্নধর্মী বার্তার পাল্টায় ইরান সরাসরি জানিয়ে দিল, যুদ্ধের সমাপ্তি কবে হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়।
ট্রাম্পের বয়ানে ধোঁয়াশা: জয় না কি লড়াই?
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং দলীয় সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে।
• প্রথম বক্তব্য: সূত্রের খবর অনুযায়ী এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, “যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে এবং নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এগোচ্ছে।” তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে— তাদের নৌবাহিনী, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বিমান বাহিনী বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
• দ্বিতীয় বক্তব্য: কয়েক ঘণ্টা পরেই সুর বদলে রিপাবলিকান পার্টির এক সভায় তিনি বলেন, “আমরা অনেকভাবে জিতেছি, কিন্তু যথেষ্ট জয় এখনো আসেনি।” ইরানকে ‘চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে’ পরাজিত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘সবার জন্য নিরাপত্তা, নয়তো কারও জন্য নয়’
ট্রাম্পের এই স্ববিরোধী মন্তব্যকে ‘বাজে কথা’ (Nonsense) বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। তাদের মুখপাত্রের কড়া হুঁশিয়ারি:
1. তেহরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধের শেষ কবে এবং কীভাবে হবে, তা তেহরানই ঠিক করবে।
2. তেল রফতানি বন্ধ: আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে “এক লিটার তেলও” রফতানি করতে দেওয়া হবে না।
3. আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, না হলে কারও জন্যই থাকবে না।
বিধ্বস্ত তেল ডিপো ও সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি
গত শনিবারে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী আলবোরজ প্রদেশে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় পাঁচটি তেল ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তেহরান জুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। অন্যদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
• নিহত: ১,৩৩২ জন।
• ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা: ৯,৬৬৯টি (যার মধ্যে বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন অন্তর্ভুক্ত)।
দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি তেহরানের
পিছু হটার বদলে দীর্ঘ লড়াইয়ের পথেই হাঁটছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ছয় মাস উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধ চালানো সম্ভব। খুব শীঘ্রই তারা আরও উন্নত এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পাশাপাশি নতুন রণকৌশল সামনে আনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
