উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সংঘাতের মাঝেই এবার ইরাকের আকাশে ভেঙে পড়ল মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি KC-135 এরিয়াল ট্যাঙ্কার। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। বিমানে ৫ জন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
পশ্চিম ইরাকে উদ্ধার অভিযান
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অংশ হিসেবে দুটি বিমান পশ্চিম ইরাকের বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় উড়ছিল। তার মধ্যে একটি বিমান নিরাপদ অবতরণ করলেও অন্যটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বর্তমানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
দায় স্বীকার ও মার্কিন অবস্থান
ইরাকের ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এই বিমানটি গুলি করে নামানোর দাবি করেছে। তাদের মতে, সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শত্রুদেশের হামলার তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছে। তাদের প্রাথমিক দাবি, কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই KC-135 ট্যাঙ্কার?
এই KC-135 বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম মেরুদণ্ড। এটি মূলত আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ (Refuelling) করতে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে মার্কিন ফাইটার জেটগুলো অবতরণ না করেই দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।
এক নজরে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি চতুর্থ মার্কিন বিমান যা দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। গত সপ্তাহেও কুয়েতি বাহিনীর ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছিল।
যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান:
• নিহত মার্কিন সেনা: ৭ জন (৬ জন কুয়েতে ড্রোন হামলায় এবং ১ জন সৌদি আরবে হামলায়)।
• আহত মার্কিন সেনা: প্রায় ১৪০ জন।
• বিমানের ক্ষয়ক্ষতি: এ পর্যন্ত ৪টি বিমান বিধ্বস্ত।
ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ
পেন্টাগন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিখোঁজ সেনাদের পরিবারের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে এই বিমান দুর্ঘটনার ফলে ইরাক ও ইরানের আকাশসীমায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করল।
