উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত শনিবারের সেই অভিশপ্ত দুপুর। ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয় মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। অভিযোগ, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৫০ জন, যাদের অধিকাংশই নিষ্পাপ শিশু। ঘটনার কয়েকদিন পার হতেই এবার ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। খোদ মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার সূত্রেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— ইরানের ওই স্কুলে সম্ভবত আছড়ে পড়েছিল খোদ আমেরিকারই বোমা।
তদন্তের জালে যখন খোদ ত্রাতা
সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে আমেরিকার দিকেই আঙুল উঠছে। যদিও হোয়াইট হাউস এখনও সরকারিভাবে নীরবতা বজায় রেখেছে, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন: “প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ বলছে, স্কুলটির ওপর আমেরিকার বোমাই পড়েছিল। তবে আমরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছি না। তদন্তের অগ্রগতিতে অন্য কারোর দিকেও অভিযোগের তির ঘুরতে পারে।”
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ‘শিশুদের কবরস্থান’
মিনাব স্কুল প্রাঙ্গণের যে ছবি বর্তমানে বিশ্ববিবেকে নাড়া দিয়েছে, তা এক কথায় হৃদয়বিদারক। সার দিয়ে খোঁড়া হয়েছে ছোট ছোট কবর। প্রতিটিতে গোঁজা ইরানের জাতীয় পতাকা। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের দূত আলি বাহরেইনি এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলের খবর নিশ্চিত করেছেন। গোটা বিশ্ব এখন প্রশ্ন তুলছে— এই কি আধুনিক যুদ্ধনীতির নমুনা?
মার্কিন সাফাই: ‘ইচ্ছাকৃত নয়’
আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, তারা কখনও অসামরিক বা নিরীহ নাগরিকদের নিশানা করে না। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, আমেরিকার বাহিনী জেনেশুনে কোনো স্কুলে হামলা চালাতে পারে না। প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের সুরও একই— এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হতে পারে, যা তদন্ত সাপেক্ষ।যদিও তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
