উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের দাবানল ক্রমেই বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে। এরই মাঝে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এক বিস্ফোরক দাবি করলেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান তথা সে দেশের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি লারিজানি। তাঁর দাবি, আমেরিকায় আবারও ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) (Iran 9/11 Fashion Assault Declare) মতো বড়সড়ো নাশকতামূলক হামলার ষড়যন্ত্র চলছে। আর এই হামলার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেশটিকে আরও বড় বিপদে ফেলার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ লারিজানির:
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় লারিজানি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন ‘এপস্টেইন নেটওয়ার্ক’-এর দিকে। লারিজানির দাবি, “আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি যে এপস্টেইন গ্যাংয়ের জীবিত সদস্যরা ৯/১১ স্টাইলে হামলার পরিকল্পনা করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানো। তবে ইরান পরিষ্কার জানাচ্ছে, আমরা যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরোধী এবং আমেরিকার সাধারণ জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই।”
I’ve heard that the remaining members of Epstein’s community have devised a conspiracy to create an incident just like 9/11 and blame Iran for it. Iran essentially opposes such terrorist schemes and has no struggle with the American individuals.
— Ali Larijani | علی لاریجانی (@alilarijani_ir) March 15, 2026
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও আমেরিকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে (Iran-US Battle) ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন শনিবার ভোরে ইরানের খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এই আক্রমণকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের ‘ভয়ংকরতম বোমাবর্ষণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনকি রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে চরম ঔদ্ধত্যের সুরে বলতে শোনা গিয়েছে, “প্রয়োজন পড়লে মজার ছলে আমরা আবারও খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে পারি।”
পাল্টা চাপে ইরান:
মার্কিন এই আগ্রাসনের মুখে ইরান তাদের রণকৌশল বদলাচ্ছে। বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আমেরিকাকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলার পরিকল্পনা করছে তেহরান। লারিজানি লাগাতার ট্রাম্পের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি ট্রাম্পকে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকার নেতারা যখন এপস্টেইন দ্বীপে সময় কাটান, তখন ইরানের নেতারা জনগণের পাশে থাকেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লারিজানির এই বয়ান আসলে ইরানকে ‘তছনছ’ করার মার্কিন অজুহাতকে ভোঁতা করার একটি কৌশল। তবে এই পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
