উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের প্রতিবাদে মুখর ইরানের রাজপথ (Iran)। মোল্লাতন্ত্রের (Mullahs) বিরুদ্ধে বিগত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ (Protest) শুরু হয়েছে তেহরান, মাশহাদ সহ একাধিক শহরে। ‘মোল্লাদের ইরান ছাড়তে হবে’, ‘স্বৈরাচারের পতন হোক’ এধরনের স্লোগান শোনা যাচ্ছে জনগণের মুখে। গত তিন বছরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) শাসনকালে এই প্রথম এত বড় বিক্ষোভের সম্মুখীন দেশটি।
বর্তমানে গভীর অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে ইরানে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের (Iranian rial) মান অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪২ শতাংশের বেশি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অত্যধিক হারে বেড়ে যাওয়ায় তাই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইরানের জনগণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষ জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতেও দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে এও দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সমস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের বলতে শোনা গিয়েছে, ‘মোল্লাদের ইরান ছাড়তে হবে’ এবং ‘স্বৈরাচারের পতন হোক…। এটি এমন এক জাতির কণ্ঠস্বর, যারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র চায় না।’
যদিও অভিযোগ, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে এই বিক্ষোভকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেদেশের সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, মোবাইল বিক্রেতারা রিয়ালের দরপতনের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে এই আন্দোলন করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি নিছক অর্থনৈতিক দাবি নয়, বরং এটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও চরমপন্থী শাসকের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের লড়াই।
অন্যদিকে, ইরানের এই পরিস্থিতির নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়েছে। অর্থনৈতিক অবরোধ এবং তেল রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ ইরানের অর্থনীতিকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর নীতি এবং ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানের শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে। তবে ৯ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটি দেশে আর্থিক সংকট এবং আইন-শৃঙ্খলার এই অবনতি যে ইরানের ধর্মীয় শাসনের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
