উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার রক্তক্ষয়ী এক সংঘাতের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রাচ্য। তেহরান থেকে শুরু করে ইরানের প্রান্তিক শহর মিনাব— সর্বত্র আমেরিকা ও ইজরায়েলি বায়ুসেনার বিধ্বংসী হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় শিক্ষার্থী সহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ওই এলাকায় ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ডের একটি বড় ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় দেশটিতে প্রথমবারের মতো বড় আকারের প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাধারণ মানুষকে ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইরানি জনগণ, আপনাদের ভাগ্য আপনাদের হাতে নেওয়ার সময় এসেছে।” একই সুর শোনা গেছে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গলায়। তিনি দাবি করেছেন, এই যৌথ অপারেশন ইরানের সাহসী মানুষের জন্য নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার পথ তৈরি করবে।
তেহরানে খামেনেই-এর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণ
রাজধানী তেহরানের আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়। খোদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো লক্ষ্য করে প্রথম দফার হামলা চালানো হয়। ইরানজুড়ে পরমাণু কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল ও সামরিক অবকাঠামোগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষায় শত্রুসেনার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে তেহরান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান ও তার মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো।
