উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য ও শোকমিছিলকে কেন্দ্র করে পুরো ইরান (Iran) এখন শোকস্তব্ধ। তবে এই শোকের আবহকে ছাপিয়ে একটি বিষয় আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তা হল ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার ও প্রয়াত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি।রবিবার তেহরানে আয়োজিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার দেখা না মেলায় তার বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রয়াত খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ খামেনি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বাবার কফিনের পেছনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন পরিস্থিতিতে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁদের। এসময় মাসুদ খামেনিকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian), পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং আইআরজিসি কমান্ডার-ইন-চিফ আহমেদ ভাহিদিও (Ahmad Vahidi) উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, মোজতবা খামেনির এই অনুপস্থিতির মূল কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কর্তৃপক্ষ মোজতবাকে জনসম্মুখে আসতে নিষেধ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকেই মোজতবা জনসম্মুখে আসেননি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বড় কোনো জনসমাবেশে অংশ নিলে মোজতবাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল। এমনকি তার বর্তমান অবস্থানের সূত্র ধরে তাকে ট্র্যাক করার আশঙ্কায় কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষের সমাগমের আশা করা হচ্ছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো প্রয়াত নেতার কফিনের ওপর রাখা ছিল তার প্রিয় কালো পাগড়ি, যা তার সাথে নিহত অন্যান্য আত্মীয় ও নাতনির কফিনের পাশেই রাখা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইরানি রক্ষণশীল ও উদারপন্থী শিবিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে। যদিও তার শাসনভারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তবুও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তার চেয়ে বড় অগ্রাধিকার এখন আর নেই।
আগামী ৯ জুলাই সমাধিস্থ করা হবে আলি খামেনিকে। তবে মোজতবা খামেনি শেষ পর্যন্ত তার বাবার সমাধিস্থলে উপস্থিত হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

