প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে যেমন একবার দপ করে জ্বলে ওঠে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের পারফরম্যান্সও যেন ঠিক তেমনই। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি এদিন দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে অনায়াসে হারিয়ে দিল অনেকটাই উপরে থাকা চেন্নাই সুপার কিংসকে। মিচেল মার্শের বিধ্বংসী ইনিংসের সৌজন্যে ৮ উইকেটে জয় তুলে নিল এলএসজি।
এই বিষয়ে আরও খবর
চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে সমীকরণটা ছিল খুবই সহজ, লখনউকে হারালেই প্রথম চারে ঢুকে পড়বে। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই সমস্ত হিসাবই ওলটপালট করে দিল এলএসজি। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার তারকা মিচেল মার্শ যেভাবে ব্যাট চালালেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। একদিকে মার্শ ছিলেন মারমুখী মেজাজে, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গী জস ইংলিশ খেললেন দায়িত্বশীল ইনিংস। স্পেনসার জনসন, অংশুল কম্বোজদের মতো বোলাররা মার্শের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। আর ইংলিশ শান্ত মাথায় ইনিংস গড়ে মার্শকে সঙ্গ দেন। সুযোগ পেলেই স্ট্রাইক ঘুরিয়ে সতীর্থকে বড় শট খেলার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন তিনি।
মার্শ-ইংলিশের জুটিতে ভর করেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় লখনউ। দু’জনে মিলে মাত্র ৭০ বলে যোগ করেন ১৩৫ রান। চেন্নাইয়ের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুকেশ চৌধুরী। ৩২ বলে ৩৬ রানে ফেরেন ইংলিশ। তবে এরপরই আসে ম্যাচের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্ত। শতরানের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েও রান আউট হয়ে ফিরতে হল মার্শকে। নন-স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অজি তারকা তখন অনেকটাই ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় নিকোলাস পুরানের সোজা ব্যাটে শট বোলার মুকেশ চৌধুরীর আঙুলের ডগায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। সামান্য ডিফ্লেকশন হলেও সেটাই যথেষ্ট ছিল মার্শকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৯০ রান করে থামতে হয় তাঁকে। দুর্ভাগ্যের কারণে অধরাই থেকে গেল দুরন্ত এক শতরান। তাতে অবশ্য জয় আটকায়নি লখনউয়ের। এই হারের পর প্লেঅফ অঙ্ক অনেকটাই জটিল হল চেন্নাইয়ের।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
