উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজনীতি যে চরম সম্ভাবনার খেলা এবং এখানে যে কোনো মুহূর্তে পাশা উল্টে যেতে পারে, তার আরও এক বড় প্রমাণ মিলল দেশের রাজধানীতে। খাতায়-কলমে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও, নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার এক নজিরবিহীন ও চমকপ্রদ কৌশল নিতে চলেছেন বাংলার বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। কোনো বড় জাতীয় দল নয়, বরং আইনি জটিলতা এড়াতে তাঁরা দলবেঁধে যোগ দিতে চলেছেন ত্রিপুরার এক প্রায় অপরিচিত আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে।
দিল্লিতে বিজেপি শীর্ষনেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে ম্যারাথন বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর। এনসিপিআই (NCPI) নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ শিবিরের প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা সম্পন্ন। আপাতত ঠিক হয়েছে, লোকসভায় এই দলের সাংসদ হিসেবেই নিজেদের পরিচয় দেবেন তৃণমূলত্যাগী সাংসদরা। যেহেতু এই মুহূর্তে প্রায় ২২ জন সাংসদ একসঙ্গে দল ছাড়ছেন, তাই সংসদের নিয়ম অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁদের ওপর ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ (Anti-Defection Legislation) কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি সম্ভাবনা নেই।
কিন্তু হঠাৎ ত্রিপুরার এই ছোট দলের শরণাপন্ন কেন হতে হলো বিক্ষুব্ধদের? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে তৃণমূল শিবিরের এক বড়সড় আইনি চাল। জানা গেছে, তৃণমূলের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরিকা ঘোষের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, যাতে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ‘নতুন ব্লক’ হিসেবে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। প্রয়োজনে তৃণমূল এই বিষয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকার যদি আইনি জটিলতার কারণে সরাসরি নতুন ব্লকের স্বীকৃতি দিতে দেরি করেন বা অস্বীকার করেন, তবে সাংসদ পদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই চরম আইনি সংকট এড়াতেই তড়িঘড়ি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ছাতাতলায় আশ্রয় নিতে এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন বিক্ষুব্ধরা। বাংলার রাজনীতির জল এবার ত্রিপুরার আঞ্চলিক দলের হাত ধরে কোন দিকে গড়ায়, সোমবার স্পিকারের সাথে বৈঠকের পরই তা স্পষ্ট হবে।
