Instructor paints college partitions | স্কুলের দেওয়ালেই বর্ণের মেলা! খুদেদের টানে রং-তুলিতে বিদ্যাপীঠ সাজাচ্ছেন অনিন্দিতা

Instructor paints college partitions | স্কুলের দেওয়ালেই বর্ণের মেলা! খুদেদের টানে রং-তুলিতে বিদ্যাপীঠ সাজাচ্ছেন অনিন্দিতা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


ভালোবাসার টানেই ক্লাসরুম থেকে সিঁড়ির ঘর, সর্বত্রই ছবি এঁকে শিক্ষাঙ্গনকে সাজিয়ে তুলছেন। বড় অর্থনৈতিক উৎস না থাকলেও, নিজের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা দিয়ে শিক্ষার স্বর্গ গড়তে ব্রতী তিনি।

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: ছোটরা বইয়ের চেয়ে ছবি, রং আর গল্পের মাধ্যমে দ্রুত শেখে। দেওয়ালে আঁকা অক্ষর, সংখ্যা, প্রাণী, মানচিত্র- এসব দেখে তারা খেলতে খেলতেই শিখতে পারে। তাই খুদে পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের ছবি এঁকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ক্লাসরুম। শুধু তাই নয়, গোটা স্কুলের দেওয়ালজুড়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য। সেখানেই শেষ নয়। স্কুলের সিঁড়িতেও রয়েছে শিক্ষার পাঠ। শিক্ষাকে আনন্দদায়ক, সহজ ও জীবন্ত করে তোলার আন্তরিক ইচ্ছার এই ছবি কোচবিহার শহরতলির বিরজা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

শিক্ষকদের আদর্শ নিয়ে আজকাল যখন প্রায়ই বাঁকা কথা শোনা যায়, সেখানে খুদে পড়ুয়াদের স্কুলের প্রতি টান বাড়াতে বিদ্যালয়ের দেওয়ালজুড়ে নানা ছবি ফুটিয়ে তুলছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অনিন্দিতা ঘোষ (Instructor paints college partitions)। তিনি চান বাচ্চারা একটি আনন্দময় ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশে বড় হোক। তিনি ভালোবাসার টানেই বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে সিঁড়ির ঘর, বারান্দা সর্বত্রই বিভিন্ন ধরনের ছবি এঁকে শিক্ষাঙ্গনকে সাজিয়ে তুলছেন। বড় অর্থনৈতিক উৎস না থাকলেও, নিজের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা দিয়ে যে স্কুলকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়- এই ভাবনা থেকেই তিনি এমন কাজ শুরু করেন।

স্কুল সাজাতে তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে অন্য সহকর্মীরাও। প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ বর্মন বলেন, ‘টিফিনের ফাঁকে কিংবা স্কুল শেষ হলেও তিনি ছবি আঁকেন। বিদ্যালয়ের প্রতি একজন শিক্ষিকার ভালোবাসা যে কতটা গভীর, তা ওঁকে না দেখলে বোঝা যাবে না।’

করোনার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে ক্লাসরুমের ভেতরে এবং বাইরে নানা ধরনের ছবি আঁকছেন এই শিক্ষিকা। অবশ্য সহকর্মীদের উৎসাহে বিদ্যালয় চত্বরে ছোট বাগানও তৈরি করেছেন তিনি। গাছের পরিচর্যা করা থেকে শুরু করে সকাল, বিকেল গাছে জল দেওয়া সব কাজই করছেন তিনি।

এদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, দেওয়ালে কার্টুন চরিত্র এঁকে সেখানে সপ্তাহের সাতদিনের নাম যেমন তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ছবির মধ্যে দিয়েই সযত্নে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। অভিনব পদ্ধতিতে শিক্ষাঙ্গনকে সাজিয়ে তোলায় তিনি সহকর্মীদের কাছে তো বটেই, গ্রামবাসীদেরও কুর্নিশ পাচ্ছেন।

এই স্কুলে প্রি-প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৪ জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ৫। এদিন কাজের ফাঁকেই শিক্ষিকা অনিন্দিতা ঘোষ বলেন, ‘প্রথাগতভাবে ছবি আঁকা না শিখলেও স্কুলের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণ বাড়াতেই এই চেষ্টা। কার্টুন চরিত্র কিংবা শিশুসুলভ ছবির প্রতি শিশুরা আকৃষ্ট হয়। খেলাচ্ছলে পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে এই পন্থা অবলম্বন করেছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *