নয়াদিল্লি: সকালবেলা এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেখলেন আপনার ফ্লাইট বাতিল। কাউন্টারের সামনে হাজার হাজার মানুষের ভিড়, ক্ষোভ আর হাহাকার। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এটাই চেনা ছবি। ইন্ডিগোর এই নজিরবিহীন উড়ান-বিপর্যয়ে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, তখন আসরে নামল কেন্দ্র। বিমান মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিল—যাত্রীদের হয়রান করা চলবে না, আর পকেটে কোপ মারাও সহ্য করা হবে না।
হঠাৎ কেন এই বিপর্যয়?
এর মূলে রয়েছে পাইলটদের ডিউটি সময় সংক্রান্ত নতুন নিয়ম (FDTL) এবং দৃশ্যমানতার অভাব বা কুয়াশা। ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা আর নতুন রোস্টার তৈরির ব্যর্থতায় কার্যত বসে গিয়েছে শয়ে শয়ে বিমান। উৎসব আর বিয়ের মরসুমে এই ধাক্কায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্য এয়ারলাইন্সগুলো সুযোগ বুঝে বিমানের ভাড়া আকাশছোঁয়া করে ফেলেছিল। কলকাতা থেকে মুম্বই বা দিল্লি যাওয়ার ভাড়া পৌঁছেছিল ৮০-৯০ হাজার টাকায়!
এই অরাজকতায় ইতি টানতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে:
ভাড়ায় লাগাম: সুযোগ বুঝে আর ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকানো যাবে না। দূরত্বের ভিত্তিতে ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ৫০০ কিমির কম দূরত্বের জন্য সর্বোচ্চ ৭,৫০০ টাকা এবং ১০০০-১৫০০ কিমির জন্য ১৫,০০০ টাকা।
টাকা ফেরতের সময়সীমা: ইন্ডিগোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সমস্ত টিকিটের টাকা ৭ ডিসেম্বর, রবিবার রাত ৮টার মধ্যে যাত্রীদের ফেরত দিতে হবে।
বাড়তি চার্জ নয়: ফ্লাইট বাতিল বা রিস্কেডিউল করার জন্য যাত্রীদের থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।
ভবিষ্যৎ কী?
ডিজিসিএ (DGCA) ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর এই গাফিলতির তদন্ত শুরু করেছে। পাইলটদের বিশ্রামের নিয়ম কিছুটা শিথিল করে সাময়িক সুরাহা হয়তো মিলবে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন্সের এই হঠকারী পরিকল্পনার মাশুল কেন গুনবে সাধারণ মানুষ? আপাতত সরকারের এই কড়া শাসনে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, সম্পূর্ণ পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, সেদিকেই তাকিয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
