উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের দাপট থাকলেও, অবৈধ অনুপ্রবেশ (Indian Migrants) এবং ভিসার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সম্প্রতি মোদী সরকার সংসদে যে তথ্য পেশ করেছে, তা বেশ চমকপ্রদ। অনেকেই মনে করেন, আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলি থেকেই হয়তো সবচেয়ে বেশি ভারতীয়কে ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। গত পাঁচ বছরে আমেরিকাকে বহু পেছনে ফেলে ভারতীয়দের ‘ডিপোর্ট’ বা দেশে ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক রাজ্যসভায় যে তথ্য পেশ করেছে, সেই অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে (২০২১-২০২৫) সৌদি আরব থেকে প্রায় ৫০,০০০ ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে:
২০২১ সালে: ৮,৮৮৭ জন
২০২২ সালে: ১০,২৭৭ জন
২০২৩ সালে: ১১,৪৮৬ জন
২০২৪ সালে: ৯,২০৬ জন
২০২৫ সালে (এখনও পর্যন্ত): প্রায় ১১,০০০-এর বেশি।
অন্যদিকে, আমেরিকার চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে আমেরিকা থেকে মাত্র ৩,৮০০ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, আমেরিকার তুলনায় সৌদি আরব থেকে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার প্রায় তিন গুণ বেশি।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
সৌদি আরব এবং আমেরিকার ক্ষেত্রে কারণগুলো অবশ্য আলাদা।
সৌদি আরব: মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে মূলত ‘ইকামাহ’ (রেসিডেন্সি পারমিট) বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি সরকারের ‘সৌদিকরণ’ (Saudisation) নীতি এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানের ফলে এই সংখ্যা বেড়েছে।
আমেরিকা: ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং নথিপত্রের সঠিক যাচাইয়ের অভাবে আমেরিকা থেকেও ডিপোর্টেশনের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে তা সৌদি আরবের ধারেকাছেও নেই। মূলত অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার বা ভিসার মেয়াদে বেশিদিন থাকার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি
সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কুয়েত, ওমান এবং কাতার থেকেও প্রচুর সংখ্যক ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে মায়ানমার ও মালয়েশিয়া থেকেও ডিপোর্টেশনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মায়ানমার থেকে সাইবার অপরাধের ফাঁদে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করে ফেরত আনার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে সঠিক নথিপত্র এবং এজেন্টদের সম্পর্কে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, নতুবা স্বপ্নের প্রবাস জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে সময় লাগে না।
