ভাইজ্যাগ: টস নিয়ে টেনশন। শিশির নিয়ে আতঙ্ক!
অদ্ভুত এক সন্ধিক্ষণে ভারতীয় ক্রিকেট। অস্তিত্বের সংকটে বললেও ভুল হবে না খুব একটা।
‘ঘরের মাঠে বাঘ’ অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদের মতো ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই তকমা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজ সেই তকমা ধরে টানাটানি শুরু করেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, জোড়া টেস্টে হারের পর এবার একদিনের সিরিজেও গেল গেল রব উঠেছে। রাঁচিতে কোনওরকমে জয় এসেছিল। রায়পুরে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা টেস্টের পর একদিনের সিরিজও জিততে এসেছে ভারত সফরে। সঙ্গে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, ৩৫০ বা তার বেশি রানও নিরাপদ নয় একদিনের সিরিজে।
শনিবার ভাইজ্যাগের মাঠে সিরিজের শেষ একদিনের ম্যাচের ফল কী হবে? আপাতত এই প্রশ্নে ‘ঘেঁটে ঘ’ ভারতীয় ক্রিকেট সমাজ। বিরাট কোহলি সিরিজের দুটি একদিনের ম্যাচেও শতরান করেছেন। কিন্তু তারপরও জোড়া ম্যাচ জিতে সিরিজ জেতা হয়নি টিম ইন্ডিয়ার। বরং বিরাট শতরান করলেই ভারত ম্যাচ জিতে নেবে অনায়াসে, এমন ধারণাকেও ধাক্কা দিয়েছেন টেম্বা বাভুমারা। এমন অবস্থায় আগামীকাল সিরিজের শেষ একদিনের ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার ভরসা বলতে সেই রোকো জুটি। কোহলি জোড়া শতরান করলেও রোহিতের ব্যাটে এখনও বড় রান নেই। যদিও পরিসংখ্যান টিম ইন্ডিয়ার জন্য স্বস্তির। কারণ, ভাইজ্যাগের মাঠ বিরাটের জন্য ‘পয়া’। ভাইজ্যাগের মাঠে একদিনের ক্রিকেটে বিরাটের চারটি শতরান রয়েছে। টেস্টে রয়েছে একটি। আগামীকাল কি কোহলির শতরানের সংখ্যা বাড়বে? চলছে চর্চা।
তার মধ্যেই আজ আরও একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ১৯৮৬-’৮৭ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষবার টেস্ট ও একদিনের সিরিজে হেরেছিল ভারত। ৩৯ বছর আগের সেই ইতিহাস ভেঙে নয়া নজির গড়ার হাতছানির সামনে বাভুমারা। আগামীকাল শেষ একদিনের ম্যাচের আগে নান্দ্রে বার্গার ও টনি ডি জর্জির হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট চাপে ফেলে দিয়েছে বাভুমাদেরও। তাঁদের ফিট করে খেলানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর। যদিও সম্ভাবনা কম। বার্গারদের পরিবর্ত কে বা কারা হন, সেদিকে নজর থাকবে আগামীকাল। ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোসেট আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়ে দলের মনোভাবের কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ‘শেষ ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে পুরো দল।’ প্রোটিয়াদের মিডল অর্ডার ব্যাটার ম্যাথু ব্রিৎজের গলায়ও আজ শোনা গিয়েছে সিরিজ জয়ের হুংকার। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘দল হিসেবে আমরা তৈরি যে কোনও চ্যালেঞ্জের জন্য। আমাদের দলের যা ভারসাম্য ও গভীরতা তারপর ভারতের মাটিতে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের ভাবনায় ভুল নেই।’
দুই দলেরই সিরিজ জয়ের মঞ্চে রয়েছে রোকো জুটিকে নিয়েও চর্চাও। বিরাটের সঙ্গে রায়পুর ওডিআইয়ে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ও শতরান করেছিলেন। কিন্তু দল জেতেনি। লোকেশ রাহুল দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে হারের পর দলের বোলারদের কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। সঙ্গে ভিলেন হিসেবে হাজির হয়েছিল ফিল্ডিং। ভারতীয় দলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, সন্ধ্যার শিশিরে ফিল্ডিং করা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা কিছুতেই মেটানো যাচ্ছে না। টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচ রায়ান টেনও শিশির সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন আজ। সঙ্গে রয়েছে ভারত অধিনায়কের টস হারের দুর্দান্ত রেকর্ডও। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, আগামীকাল ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে কোনও বদলের সম্ভাবনা প্রায় নেই। দলে পরিবর্তন না হলেও রোকোরা কি পারবেন তাঁদের সতীর্থদের থেকে সেরাটা বার করে এনে একদিনের সিরিজ জিততে?
প্রশ্নের জবাবের জন্য আগামীকাল রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। তার আগে ভাইজ্যাগের ব্যাটিং সহায়ক বাইশ গজের পাশে সন্ধ্যার শিশির ভারতীয় দলের টেনশন বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যেই চলছে টিম ইন্ডিয়ার সিরিজ জয়ের পাশে কোহলির শতরানের হ্যাটট্রিকের জল্পনাও।
প্রশ্ন একটাই, কোহলি যদি আগামীকাল ফের শতরান করেন, দলের রান ৩৫০-এর উপর পৌঁছে দেন, পরে অর্শদীপ সিং, প্রসিধ কৃষ্ণা, কুলদীপ যাদবরা সেই রান ধরে রাখতে পারবেন তো?
