উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক লড়াইয়ে এবার নতুন মাত্রা যোগ করল ‘সংখ্যালঘু স্বার্থ’ ইস্যু। ভারতে বড়দিনের সময় কয়েকটি গির্জায় অশান্তির ঘটনা তুলে ধরে পাকিস্তানের উদ্বেগ প্রকাশকে সরাসরি ‘অসার’ বলে উড়িয়ে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানান, ভারতের দিকে আঙুল তুলে পাকিস্তান নিজের দেশের ‘ভয়াবহ ও কলঙ্কিত’ ইতিহাস মুছে ফেলতে পারবে না।
বিতর্কের সূত্রপাত: পাকিস্তানের ‘উদ্বেগ’
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেন, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে তিনি মূলত তিনটি বিষয়কে ঢাল করেন:
• বড়দিনের ঘটনা: ভারতের কিছু গির্জায় ভাঙচুরের অভিযোগ।
• আখলাক হত্যা মামলা: ২০১৫ সালের দাদরি গণপিটুনি মামলার অভিযুক্তদের ভারত সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
• রাম মন্দির বনাম বাবরি মসজিদ: বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির তৈরির অনুমতি দিয়ে ভারতের বিচারব্যবস্থা ‘ধর্মীয় বৈষম্য’ করেছে বলে সরব হয় শাহবাজ শরিফ সরকার।
ভারতের কড়া পালটা জবাব
নয়াদিল্লির হয়ে রণধীর জয়সওয়াল এদিন পাকিস্তানকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, অন্য দেশের ওপর খবরদারি করার আগে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ দেখা। রণধীরের বক্তব্য অনুসারে:
১. সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য: পাকিস্তানে বিভিন্ন ধর্মের সংখ্যালঘুদের ওপর প্রতিনিয়ত যে অমানবিক অত্যাচার চলে, তা সারা বিশ্বের কাছে একটি প্রমাণিত সত্য।
২. নৈতিক অধিকার: যে দেশে সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, সেই দেশের মুখপাত্রের ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
৩. ভস্মে ঘি ঢালা: দাদরি মামলার অভিযুক্তদের রেহাই দেওয়ার আর্জি উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত ইতিমধ্যে খারিজ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের এই মন্তব্য আসলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।
ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপট
কূটনৈতিক মহলের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রায়ই ভারতকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করে ইসলামাবাদ। কিন্তু এদিন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো দেশের ভিত্তিহীন মন্তব্যকে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
