হোবার্ট: ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট শিকারি।
জসপ্রীত বুমরাহ সহ বাকিদের পিছনে ফেলে প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে একশো উইকেট প্রাপ্তি। অথচ, টি২০ দলে অটোমেটিক চয়েস থেকে গৌতম গম্ভীর জমানায় রাতারাতি রিজার্ভ বেঞ্চে নিয়মিত হয়ে ওঠা। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি অর্শদীপ সিং।
বাঁহাতি সুইং বোলারের যে আত্মবিশ্বাসের কাঁধে চেপে আজ অজি-বধ ভারতের। হর্ষিত রানার পরিবর্ত হিসেবে দলে ফিরেই নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেন। টিম ডেভিড, মার্কাস স্টোয়িনিসদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাঝেও দলকে লড়াইয়ে রাখলেন নিয়ন্ত্রিত সুইং বোলিংয়ে। পুরস্কারস্বরূপ ম্যাচের সেরা।
খুশিটা নিয়েই অর্শদীপ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কখনও বিরাম দিইনি। সবসময় বিশ্বাস রেখেছি নিজের স্কিলের ওপর। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, চেষ্টা করেছি পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নে। ভালো লাগছে সুযোগ পেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে।’
প্রাক্তন সতীর্থ রবিচন্দ্রন অশ্বীন গতকাল অর্শদীপের হয়ে ব্যাট ধরেছিলেন। হর্ষিতকে বসিয়ে খেলানোর দাবি তুলেছিলেন। এদিন দাবি পূরণ এবং ম্যাচের কারিগর হয়ে ওঠা। বাকিরা যখন ডেভিডদের সামনে গুটিয়ে গিয়েছে, তখনও নিজের অস্ত্রে ভরসা রেখে বাজিমাত। অর্শদীপের কথায়, আগ্রাসী ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বোলিং উপভোগ করেন।
কৃতিত্ব দিচ্ছেন উইকেটহীন সিনিয়ার সতীর্থ জসপ্রীত বুমরাহকেও! অর্শদীপের যুক্তি, ‘ব্যাটাররা বিগহিটের রাস্তায় হাঁটলে আউটের সুযোগ বাড়ে। আর উলটো দিকে বুমরাহ থাকা মানে, ব্যাটাররা সবসময় তোমার বিরুদ্ধে বিগহিটের সুযোগ নেবে। আমাকে যা উইকেটে পেতে সাহায্য করে।’
সিরিজে সমতা ফেরানোর স্বস্তি নিয়ে সূর্যকুমার যাদবের মুখে দীর্ঘদিন পর টস জেতার খুশি। বলেছেন, ‘টানা ১৯-২০ বার টসে হেরেছি সম্ভবত। সেদিক থেকে হারের যে রেকর্ডে ব্রেক লাগাতে পেরে ভালো লাগছে। এদিন টসে জেতাও জরুরি ছিল। আর দল যেভাবে পারফর্ম করেছে অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি।’
তিন পরিবর্তনে বাজিমাত, মানছেন সূর্য। বলেছেন, ‘প্রথম এগারোয় না থাকলেও প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরিয়েছে সবাই। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ওরা। ওয়াশি (ওয়াশিংটন সুন্দর) দুরন্ত। কখনও বোলিং তো কখনও ব্যাটিং- নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখছে। জিতেশ শর্মাও অবদান রাখল। অর্শদীপ দুর্দান্ত। আমার মনে হয়, আজকের টিম কম্বিনেশন একদম পারফেক্ট ছিল।’
সূর্যের মতে, শুরুতে রিংটোন সেট করে দেয় বুমরাহ-অর্শদীপের ওপেনিং স্পেল। বলেছেন, ‘বুমরাহ নিঃশব্দে নিজের কাজটা সেরেছে। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছে। উলটো দিক থেকে অর্শদীপ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। ঘাতক কম্বিনেশন দুইজনের।’ সিরিজ ১-১। বাকি দুই ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রেখে সিরিজ পকেটে পুরতে বদ্ধপরিকর সূর্যরা। জানিয়েও দিলেন, আজকের জয় আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বাকি দুই ম্যাচে উপভোগ্য ক্রিকেট খেলবে দল।
অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শও কৃতিত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় বোলারদের। বলেছেন, ‘আমরা ২০ রান কম করেছি। কৃতিত্বটা ওদের বোলিংয়ের প্রাপ্য। মাঠে আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এদিন জয় ভারতের প্রাপ্য ছিল। তবে টিম ডেভিড দুর্দান্ত ব্যাটিং করল। স্টোয়িনিসও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বোঝাল।’
