বালুরঘাট: ক্যালেন্ডারের পাতায় সরস্বতী পুজো পার হয়েছে বেশ অনেকদিন। বসন্তের আমেজ থাকলেও মৃৎশিল্পীদের ঘরে এখন সাধারণত মরা মরশুম। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) বালুরঘাট শহরের চিত্রটা এবার একদম আলাদা। শহরের চকভৃগু এলাকায় মৃৎশিল্পীদের আঙিনায় এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে চলছে ছোট ছোট সরস্বতী প্রতিমা তৈরির কাজ। বালুরঘাটের (Idol export from Balurghat) শিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়া এই প্রতিমাগুলোই এবার পুজিত হতে চলেছে সুদূর অসম ও ত্রিপুরায়।
মরশুমের পরেও ব্যস্ততা:
সাধারণত পুজোর মরশুম শেষ হলে মৃৎশিল্পীরা পরবর্তী বড় পুজোর জন্য অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু সেই ‘অফ-সিজন’-কে কাজে লাগিয়েই এবার আয়ের নতুন দিশা খুঁজে নিয়েছেন চকভৃগুর শিল্পীরা। এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতার শয়ে শয়ে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে এখানে। মৃৎশিল্পী উৎপল পালের হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন জেলায় মৃৎশিল্পের অর্থনীতিতে নতুন অক্সিজেন দিচ্ছে। উৎপলবাবু জানান, পুজোর আগে কাজের চাপে ভিন রাজ্যের বরাত সামলানো কঠিন হয়, তাই পুজোর পরের অবসর সময়কেই তিনি এই রপ্তানির কাজে ব্যবহার করছেন।
নির্মাণ শৈলী ও রপ্তানি:
মাটি যাচাই থেকে শুরু করে ছাঁচে ফেলে প্রতিমা গড়া—প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নিখুঁত হাতের কাজ। সূক্ষ্ম তুলির টানে ফুটে উঠছে মা সরস্বতীর চোখ-মুখ, বীণা ও রাজহাঁস। চাহিদামতো রঙিন প্রতিমার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ধবধবে সাদা রঙের প্রতিমাও। এই প্রতিমাগুলো বালুরঘাট থেকে প্রথমে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সড়কপথে পৌঁছে যায় অসম (Assam) ও ত্রিপুরার (Tripura) বিভিন্ন প্রান্তে। আপাতত প্রায় ৩০০টি প্রতিমার বরাত সামলাতে ব্যস্ত স্থানীয় শিল্পীরা।
আর্থিক সমৃদ্ধির আশা:
স্থানীয় মৃৎশিল্পী উত্তম পালের মতে, বালুরঘাটের মাটির কাজ অন্য রাজ্যে সমাদৃত হচ্ছে—এটি যেমন গর্বের, তেমনই এর মাধ্যমে মৃৎশিল্পীদের সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে বালুরঘাটের এই ক্ষুদ্র মৃৎশিল্প আগামী দিনে জেলার অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় জায়গা করে নেবে বলে আশাবাদী শিল্পীরা।
